বিজেপি (BJP) নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ তৃণমূলের (TMC) বিরুদ্ধে। পাল্টা তৃণমূল কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে দাদাগিরির অভিযোগ। পুলিশ এলাকায় ঢুকতেই, পুলিশকে চোখরাঙানি নেতার। পুলিশও ওই নেতার দাপটের মুখে দাঁড়িয়ে দিলেন মোক্ষম জবাব। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনায় বুধবারও সরগরম বর্ধমান (Burdwan) পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ড। মঙ্গলবার রাতের পর থেকে এলাকা থমথমে। বুধবার সকাল থেকে দফায় দফায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে রুটমার্চ করে পুলিশ।
বর্ধমান শহরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বালামহাট এলাকার বাসিন্দা মহাদেব মাল। মঙ্গলবার রাতে তাঁর বাড়িতেই হামলার অভিযোগ ওঠে। মহাদেব মালের অভিযোগ, বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের এলাকায় প্রচারে গিয়েছিলেন মহাদেব। প্রচার-মিছিলে পা মেলানোর পাশাপাশি বাড়িতে বিজেপি কর্মীদের খাবারের ব্যবস্থা করেন। অভিযোগ, এর পরেই রাতে তৃণমূলের কর্মীরা তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়।
হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তার কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে যান তৃণমূল কাউন্সিলার নাড়ু ভকত। নাড়ু রীতিমতো পুলিশকে শাসাতে থাকেন। এমনকী কাউন্সিলার নাকি এমনও বলেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া এলাকায় পুলিশ ঢুকতে পারবে না। কাউন্সিলার বলেন, ‘আমার এলাকা এটা। মানুষকে কেন ঘুমোতে দিচ্ছেন না?’ পাল্টা পুলিশ বলতে থাকেন, ‘কী বলছেন, আপনার এলাকা? পুলিশ এলে আপনার অনুমতি নিয়ে আসতে হবে?’ দাপটের সঙ্গে কাউন্সিলার বলেন, ‘ইয়েস’। পাল্টা ওই পুলিশ অফিসার বলেন, ‘একদমই নয়। এখন Model Code of Conduct চালু। আপনার কৈফিয়ত তলব এখন কাজ করবে না। আপনাকে জবাব দিয়ে আমি নিজের ক্ষতি করব না। আগে সঠিক নিয়ম জানুন, তার পরে বলবেন।’
বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, ‘আমরা সব সময়ই বলেছি পুলিশ দলদাসে পরিণত হয়েছে। আজ পুলিশ দেখুক কী অবস্থা। পুলিশকে আঙুল তুলে বলছে, কার অনুমতিতে এলাকায় ঢুকেছে? আমরা নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ করেছি।’
জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বাবুল ইসলাম জানান, সন্ধেয় যে গোলমাল হয়, তার জন্য বিজেপি দায়ী। মহিলাদের সম্পর্কে খারাপ কথা বলে, বাজে ব্যবহার করে ওরা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে খারাপ কথা বলে। এটা তো প্রত্যাশিত না। তবে তৃণমূল চায় না কোথাও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হোক। পুলিশের কাজে কেউ কোথাও বাধা দেবে না।