একদিকে বিজেপির সম্মান রক্ষার লড়াই। অন্য দিকে, হারানো আসন পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ‘হটস্পট’ নন্দীগ্রাম। বুধবার কর্মিসভা করে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের ‘পেপ টক’ দিলেন তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা, ‘এ বার নন্দীগ্রামকে অপবিত্র থেকে পবিত্র করার লড়াই।’ উল্লেখ্য, এই আসনে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন পবিত্র কর। ২০২১ সালে হারের কারণ বিশ্লেষণ করলে অনেক সময়েই ‘অন্তর্ঘাত’-এর কথা উঠে আসে ঘাসফুল শিবিরে। তারও জবাব দেন অভিষেক।
পশ্চিম মেদিনীপুরে দু’টি নির্বাচনী সভা করে বুধবার বিকেল চারটে নাগাদ নন্দীগ্রামে উড়ে যান অভিষেক। এই আসন যে কোনও মূল্যে পুনরুদ্ধার করতে হবে, সেই বার্তা তিনি শুরুতেই বুঝিয়ে দেন দলীয় কর্মীদের। অভিষেক বলেন, ‘২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ও লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে আমরা ভালো ফল করিনি। তবে এখানে আমাদের আরও ভালো কাজ করতে হবে এবং শক্তি বাড়াতে হবে।’ অন্তর্ঘাত প্রসঙ্গে অভিষেকের বক্তব্য, ‘আমি একটাই কথা বলব, আপনাদের ছেলেমেয়েরা যদি রাজনীতি করেন, ভাবুন কেমন লাগবে যখন আপনার নাম গদ্দার শব্দের সঙ্গে যুক্ত হবে?’
নন্দীগ্রাম আসনে এ বার বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূল কাকে প্রার্থী করবে, তা নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার দিন চমক দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই দিন সকালে তৃণমূলে যোগদান করেন নন্দীগ্রামের বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ও বিজেপি নেতা পবিত্র কর। তিনি এ বার লড়ছেন শুভেন্দুর বিরুদ্ধে। অভিষেকের কথায়, ‘আমরা এখানে একজনকে প্রার্থী করেছি, যিনি এই এলাকার ভূমিপুত্র। যিনি বিধায়ক তিনি এখানে থাকেন না। আমি জানতে চাই, এই এলাকার কতজনের বাড়িতে রিপোর্ট কার্ড নিয়ে গিয়েছেন বিধায়ক? উনি নিজের বিধানসভা এলাকায় কাজের রিপোর্ট কার্ড দিন।’
পর পর দুইবার নিজের সংসদীয় এলাকায় ‘সেবাশ্রয়’ নামে মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করেছিলেন অভিষেক। কয়েকমাস আগে নন্দীগ্রামেও একই কায়দায় ‘সেবাশ্রয়’-এর আয়োজন করা হয়েছিল। নন্দীগ্রামের দু’টি ব্লকের স্বাস্থ্য শিবিরগুলিতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি আরও চনমনে করেছিল ঘাসফুল শিবিরকে। এ দিন সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরেন অভিষেক। কর্মিসভায় তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘এখানে পবিত্র করকে জেতান। আমরা প্রত্যেক বছর এখানে সেবাশ্রয় ক্যাম্প করব। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি করে মেডিক্যাল ক্যাম্প করা হবে।’