• টাঙ্গনের বাঁধ নির্মিত হলেও বিরোধীদের অস্ত্র বাসস্ট্যান্ড
    বর্তমান | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক কাজ করেছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দিয়েও কুশমণ্ডিতে বাসস্ট্যান্ড করতে পারেননি বিদায়ী বিধায়ক রেখা রায়। যা কুশমণ্ডি বিধানসভা এলাকার কয়েক লাখ মানুষের দাবি। নিজের বিধানসভা এলাকায় বহু কাজ করলেও বিরোধীদের হাতে এই বাসস্টান্ড ইস্যু তুলে দিয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক তথা এবারের তৃণমূল প্রার্থী রেখা। প্রচারে বেরিয়ে তৃণমূল প্রার্থী এবারও মানুষদের বলছেন, জিতে তাঁর প্রথম কাজ হবে বাসস্ট্যান্ড তৈরি। সঙ্গে নিকাশি ব্যবস্থা, পথবাতির কাজ বেশি করবেন তিনি।

    ২০১১ সালে রাজ্যে বাম শাসনের অবসান হলেও কুশমণ্ডিতে ‘লালদুর্গ’ ভাঙে ১০ বছর পর। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। শাসক দলের দাবি, গত পাঁচ বছরে বিধায়কের এলাকা উন্নয়ন তহবিল ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সহায়তায় ব্লকের আটটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল বদল ঘটেছে। টাঙ্গন নদীর ভাঙন রুখতে নদীবাঁধ নির্মাণও হয়েছে। যা দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তব রূপ।

    বিদায়ী বিধায়ক রেখার দাবি, বাম আমলে গ্রামীণ রাস্তাই ছিল সবচেয়ে বড় সমস্যা। আমি একাধিক দপ্তর ঘুরে পাঁচ বছরে অধিকাংশ গ্রামীণ রাস্তার কাজ করে দিয়েছি। বিধায়ক তহবিলের সব টাকাই খরচ হয়েছে। 

    রেখার সংযোজন, সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে পানীয় জল, পথবাতি, ছোট রাস্তা, কালভার্ট, গোরস্থান ও শ্মশানঘাট সংস্কার, নড়বড়িয়া শিবমন্দিরে পুণ্যার্থীদের জন্য শৌচালয়, স্কুলে মুক্তমঞ্চ ও কিচেন শেড, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে। রাজবংশী অধ্যুষিত এই এলাকায় সংস্কৃতি চর্চার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদনে প্রায় চার কোটি টাকার কমিউনিটি হলও হচ্ছে। 

    কুশমণ্ডিতে নানা উন্নয়ন হলেও রেখার গলার কাঁটা বাসস্ট্যান্ড। দীর্ঘদিনের যে  দাবি আজও পূরণ হয়নি। ব্লক সদরে নিকাশিনালা ও পথবাতির সমস্যাও রয়েছে। কুশমণ্ডির গর্ব মুখোশ ও বাঁশের হস্তশিল্প আজও বিপণনের স্থায়ী পরিকাঠামো পায়নি। শিল্পীরা বলছেন, পরিচিতি আছে, কিন্তু বাজার নেই। বিরোধীদের কথায়, উন্নয়নের এই হিসাব কাগজে-কলমে। 

    বিজেপির জেলা সম্পাদক তাপস রায় বলছেন, পাঁচ বছরে বিধায়কের উন্নয়ন কুশমণ্ডিবাসী দেখেছেন। বিধায়কের নিজের গ্রামেই রাস্তা ও কালভার্ট মেরামত হয়নি। যে কাজ হয়েছে, সেখানে কাটমানির অভিযোগ। একমাসে সেই রাস্তা বেহাল। স্বাস্থ্য, হস্তশিল্প ও শিক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়ন-সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থ বিধায়ক। স্থানীয় বাঁশশিল্পী গৌতম বৈশ্য বলেন, কাজ জানি। কিন্তু বিক্রির জায়গা নেই। সংসার চালাতে বাইরে যেতে হচ্ছে। কুশমণ্ডিতে আমাদের শিল্পকর্ম বিক্রির জন্য কোনো শোরুম নেই।

    সবমিলিয়ে, কুশমণ্ডিতে উন্নয়নের দাবি বনাম অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির দ্বন্দ্বই এখন রাজনীতির কেন্দ্রে। গ্রামীণ রাস্তার অগ্রগতি সত্ত্বেও বাসস্ট্যান্ড, নিকাশি ও হস্তশিল্পের প্রশ্নে উত্তর খুঁজছে কুশমণ্ডিবাসী।
  • Link to this news (বর্তমান)