ভিনরাজ্যের নেতাদের হাতেই দলের সব রাশ, বিজেপির নীচুতলায় ক্রমশ বাড়ছে অসন্তোষ
বর্তমান | ২৫ মার্চ ২০২৬
ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: ভিনরাজ্যের নেতাদের হাতেই দলের সংগঠন পরিচালনার রাশ। আর এনিয়ে বিজেপির নীচুতলায় বাড়ছে অসন্তোষ। গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, উত্তরাখণ্ড, বিহার সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিজেপির ২৫ জন নেতা-নেত্রী এসেছেন জলপাইগুড়িতে। দলীয় সূত্রে খবর, তাঁরাই ঠিক করে দিচ্ছেন, কোথায় কীভাবে সংগঠন চলবে। ভিনরাজ্যের এইসব নেতানেত্রীর কথাতেই কার্যত উঠতে এবং বসতে হচ্ছে পদ্ম পার্টির নীচুতলার কর্মীদের। যা মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। বিজেপির অন্দরের খবর,সংগঠনের রাশ নিজেদের হাতে রাখার পাশাপাশি কর্মীদের উপর নানা ফিরিস্তি চাপিয়ে দিচ্ছেন ওই নেতারা। ফলে দলের কাজ ফেলে কার্যত তাঁদের ‘ফরমাশ’ খাটতে হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের তোপ, সারাবছর আমরা দলের জন্য কাজ করি। কিন্তু ভোট আসতেই আমাদের ‘রোবট’ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিনরাজ্যের নেতারাই সবটা ঠিক করে দিচ্ছেন। বাংলার সংস্কৃতি ও বাংলা ভাষা না জানা নেতাদের কথা শিরোধার্য করে চলতে হচ্ছে। নির্দেশ পালনে একটু নড়চড় হলেই যে শাস্তির খাঁড়া নেমে আসতে পারে, এমন হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখা হয়েছে। যদিও বিজেপির মিডিয়া সেলের জেলা ইনচার্জ জীবেশ দাস বলেন, সমস্ত মোর্চা মিলিয়ে বিভিন্ন রাজ্য থেকে জলপাইগুড়ি জেলায় ২৫ জন নেতা-নেত্রী এসেছেন। এনিয়ে কর্মীদের মধ্যে কোনো অসন্তোষ নেই।
দলে বিস্তারকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন বিজেপির রাজগঞ্জ উত্তর মণ্ডলের সম্পাদক সুজিত দে। প্রার্থী ইস্যুতে দলের জেলা নেতৃত্বকেও এক হাত নিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির ওই নেতার তোপ, বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিস্তারকরা এসেছেন। তাঁরা নাকি তিন-চারমাস ধরে ফিল্ডে কাজ করছেন। কিন্তু তারপরও রাজগঞ্জে দলের প্রার্থী ঘোষণায় দেরি কেন? জেলা নেতৃত্ব কার স্বার্থে দালালি করছে?
মালবাজারেও দলের বিস্তারকদের ভূমিকায় ক্ষোভ তুঙ্গে বিজেপি কর্মীদের একাংশের। তাঁদের বক্তব্য, স্থানীয় প্রার্থী চেয়ে দলের জেলা নেতৃত্বকে লিখিত দেওয়ার পরও নাগরাকাটা থেকে ‘দলবদলু’ শুক্রা মুন্ডাকে নিয়ে এসে মাল বিধানসভায় বিজেপির টিকিট দেওয়া হল কেন? এর পিছনে ভিনরাজ্যের বিস্তারকদের হাত রয়েছে বলে মনে করছি আমরা।
বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য মহেশ বাগে বলেন, বিষয়টি নিয়ে ভিনরাজ্য থেকে আসা বিস্তারকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তাঁরা বলেন,শুক্রা মুন্ডাকে যে প্রার্থী করা হবে, এমন খবর নাকি তাঁদের কাছেও ছিল না।
তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপের তোপ, মোদি কিংবা যোগীরাজ্য থেকে নেতাদের বিজেপি যতই নিয়ে আসুক না কেন, বাংলায় একটা ভোটও লুট করতে পারবে না পদ্ম পার্টি।