‘দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ’ খোঁচা দলের নারীশক্তির, কেশপুরে মণ্ডল-বৈঠকে নেত্রীকে অসম্মান!
বর্তমান | ২৫ মার্চ ২০২৬
রাজদীপ গোস্বামী, কেশপুর: বিজেপির দিল্লির নেতাদের ‘দুর্যোধন’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কার্যত, তাঁরই সুরে কেশপুরের স্থানীয় পদ্ম নেতাদের তুলোধনা করলেন দলের প্রমিলাবাহিনী। ‘দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ’-এর প্রসঙ্গ টেনে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই সরব হয়েছেন তাঁরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট করে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক বৈঠকে একজন মহিলাকে যেভাবে হেনস্তা করা হল, তা কেবল ওই মহিলারই অপমান নয়। গোটা নারীজাতির অপমান। আপনাদের এই আসল রূপ মানুষ মনে রাখবে।’ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সুযোগ হাতছাড়া করেনি কেশপুরের তৃণমূল নেতৃত্ব। ‘বিজেপি নারীবিদ্বেষী’ বলে আক্রমণ জোরালো করেছে তারা। সবমিলিয়ে, ভোটের আগে বেজায় অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।
বিজেপি সূত্রে খবর, ওই ‘রাজনৈতিক বৈঠক’ বলতে কেশপুরে সোমবার বিকেলে মণ্ডল নেতাদের নিয়ে একটি মিটিং। ওই বৈঠকে মহিলা মোর্চার এক নেত্রী উপস্থিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সদস্যা। সংসার সামলেও দলের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেন। বৈঠকে তিনি দ্বন্দ্ব ভুলে সবাইকে একসঙ্গে চলার বার্তা দেন। অভিযোগ, এমন কথা বলার পরই মহিলা নেত্রীকে অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করেন বেশ কয়েকজন নেতা। সবার সামনে তাঁকে অপমান করা হয়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতাও ঘটনার প্রতিবাদ করেননি। খবরটি জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কেশপুরের মহিলা মোর্চার সদস্যরা।
মঙ্গলবার মোর্চার এক নেত্রী বলেন, ‘দলের নেতারাই মহিলাদের সম্মান করেন না। বিভিন্ন সময় একাধিক মহিলা অসম্মানিত হয়েছেন। তাই দলের অনেক মহিলা নেত্রী ভোটের কাজ করতে চাইছেন না। এমনকী, প্রার্থীর তরফেও কোনও সহযোগিতা নেই। আমরা সংসার সামলে কষ্ট করে রাজনীতি করছি। অথচ, দলের নেতারা আমাদের পাশে না দাঁড়িয়ে অসম্মান করছেন।’ এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে কেশপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সামন্তকে ফোন করা হয়। তিনি বলেন, ‘বড় মিটিংয়ে আছি। পরে কথা বলব।’
কেশপুরের তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা বলেন, ‘এটাই বিজেপির সংস্কৃতি। ওরা যে চরম নারীবিদ্বেষী, তার অনন্য উদাহরণ এই ঘটনা। ওদের দলের মহিলা নেত্রীরাও বিজেপি নেতাদের মুখোশ খুলে দিয়েছেন। আমি একজন মহিলা হিসেবে অপমানিত নেত্রীর পাশে রয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীকেও ওরা কুরুচিকর আক্রমণ করে।’ কেশপুরের সিপিএম প্রার্থী গুরুপদ মণ্ডল বলেন, ‘বিজেপির নেতাদের মুখোশ সামনে চলে এল। এটাই ওঁদের আসল রূপ। বাংলার মানুষের কাছে আবেদন, যাঁরা নারীশক্তিকে সম্মান দিতে জানেন না, তাঁদের ইভিএমে জবাব দিন।’
মণ্ডল নেতাদের ওই বৈঠকে মহিলা নেত্রীর ‘সম্মানহানি’র বিষয়টি হজম করতে পারেননি দলের অন্যান্য মহিলা কর্মী ও নেত্রীরা। ‘দাদার অনুগামী’ নামে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পেজে পোস্ট করে গর্জে ওঠেন তাঁরা। সেখানে লেখা, ‘কেশপুর বিধানসভা বিজেপি জিতবে তার কি কোন কারণ আছে? কিন্তু হারবে! তার অনেক কারণ আছে। মহিলাদের অপমান, কেশপুর আইটি বিভাগের ব্যর্থতা।’ তাঁরা আরও লেখেন, ‘আজকের আধুনিক যুগেও কি আমরা দ্রৌপদীর সেই বস্ত্রহরণের মানসিকতা থেকে বেরোতে পারলাম না? কেশপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সামন্ত সহ প্রথম সারির নেতাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে আজও আমরা অন্ধকার যুগেই পড়ে আছি।’