• ভাতজাংলা বসাকপাড়ার তাঁতশিল্প রক্ষায় আশ্বাস রাজনৈতিক দলগুলির, ভোটের পরে বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়ে কারিগররা
    বর্তমান | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: একসময় তাঁত শিল্পকে কেন্দ্র করে ভাতজাংলা বসাকপাড়ার ঘরে ঘরে দেখা যেত কর্মচাঞ্চল্যের ছবি। কিন্তু এখন মজুরি কমে যাওয়া, কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রভৃতির জেরে অনেক দিন ধরেই এই শতাব্দী প্রাচীন তাঁত শিল্প গভীর সংকটে পড়েছে। ভালো রোজগার না হওয়ায় একের পর এক দক্ষ কারিগর এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ফলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। কিন্তু আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে রক্ষা ও পুনরুজ্জীবিত করার আশ্বাস দিচ্ছে। তবে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ে রয়েছেন স্থানীয় তাঁতশিল্পীরা। স্থানীয় তাঁতশিল্পীদের থেকে জানা যায়, কয়েক প্রজন্ম ধরে বসাকপাড়ার অসংখ্য পরিবার এই তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এক সময় তাঁতশিল্পীদের রমরমা ব্যবসা ছিল। কয়েক দশক আগেও এলাকার প্রায় ২০০ পরিবার সরাসরি তাঁত শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলেছে পরিস্থিতি। এখন হ্যান্ডলুমের বদলে পাওয়ারলুম এসেছে,  সস্তা রেডিমেড পোশাকের বাজার দখল করেছে। কাঁচামালের লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধি সব মিলিয়ে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এই শিল্প। সেই কারণে এখন অনেকেই তাঁতের কাজ ছেড়ে দিয়ে অন্যান্য কাজ করেন। তাতে রোজগার বেশি হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এই প্রাচীন শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এই বিষয়ে কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী সাধন ঘোষ বলেন, ভাতজাংলার তাঁত শিল্পের সুনাম অনেক দিনের। কিন্তু এখন অনেক কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। আমরা ক্ষমতায় এলে তাঁত শিল্পীদের সঙ্গে আলোচনা করে যেভাবে উন্নতি  হয়, আমরা সেই পদ্ধতি অবলম্বন করব।  সিপিআইএম এর জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সুমিত বিশ্বাস বলেন, শুধু তাঁত শিল্প বলে নয়, বর্তমানে সব ক্ষুদ্র কুটির শিল্প থেকে কলকারখানা সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে।  এগুলো  পুনরুজ্জীবিত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য থাকবে। এ বিষয়ে ভাতজাংলার তৃণমূলপঞ্চায়েতের প্রধান বাবলু মন্ডল বলেন, তাঁত শিল্পীরা আমাদের কাছে এসে তাদের সমস্যার কথা জানান না। তাঁরা যদি এসে সেগুলো জানান, আমাদের খুব সুবিধা হয়। আমরা এবিষয়ে অবশ্যই চিন্তা ভাবনা করব। এক প্রবীণ তাঁতশিল্পী দীপু বসাকের কথায়, এই কাজের অবস্থা খুবই খারাপ বর্তমানে। সরকার থেকে তো কোনো সাহায্য তেমন কিছু পাওয়া যায় না। আগে এই কাজ করে সংসার চলত, এখন এই কাজ করে সংসার চালানো মুশকিল। ভোট এলেই সবাই আমাদের কথা মনে করে। প্রতিশ্রুতি অনেক পাই, কিন্তু ভোট মিটলেই আর কেউ খোঁজ থাকে না।

    আরেক তাঁত শিল্পী শিব শংকর বসাক বলেন, এমনিতেই শিল্পীর বড্ড অভাব, তার  উপর বেশিরভাগ দক্ষ শিল্পী তাঁত শিল্পের পীঠস্থান ফুলিয়ায় গিয়ে কাজ করেন। আমরা মহাজনের কাছ থেকে কাঁচামাল নিয়ে এসে শাড়ি প্রতি ৫০০ - ৭০০ টাকা হিসাবে কাজ করছি। একটা শাড়ি বুনতে প্রায় দু’দিন লেগে যায়। সরকারের আমাদের দিকে নজর দিলে আমাদের উপকার হয়। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা করা। তা না হলে ভাতজাংলা বসাকপাড়ার এই ঐতিহ্য তাঁতশিল্প একসময় ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে।  -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)