নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: নির্বাচনি প্রচারে ঝাড়গ্রামে আসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৭মার্চ তিনি জামবনী ব্লকের পড়িহাটী প্রগতি সংঘ ময়দানে সভা করবেন। সেজন্য জেলাজুড়ে এখন সাজ সাজ রব। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দলের সেনাপতির বক্তব্য শুনতে জেলার দুর্গম এলাকা থেকে বহু মানুষ দল বেঁধে আসবেন। ধামসা-মাদল বাজিয়ে অভিষেককে স্বাগত জানানো হবে।
বিনপুরের তৃণমূল প্রার্থী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, বিনপুরে আমাদের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসছেন। দলের নেতাকর্মীরা তাঁর অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন। জেলা তৃণমূল সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, বিনপুর থেকে আমরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করব। জামবনীর ১০টি ও বিনপুর-২ ব্লকের ১০টি পঞ্চায়েত বিনপুর বিধানসভায় পড়ে। আদিবাসী অধ্যুষিত এই বিধানসভার কিছু পকেটে সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের দেবনাথ হাঁসদা এখানে বিজেপির পালান সোরেনকে প্রায় ৪০হাজার ভোটে পরাজিত করেছিলেন। জেলার চারটি আসনের মধ্যে এই কেন্দ্রেই তৃণমূল সর্বাধিক ভোটে জয়লাভ করেছিল। ছাব্বিশের ভোটে সেই ব্যবধান বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাকে সামনে রেখে প্রতিটি পঞ্চায়েতে মিছিল ও বৈঠক করা হচ্ছে। জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব মঞ্চ বাঁধার কাজ তদারকি করছেন। জামবনী ও বিনপুর থেকে কর্মীসমর্থকদের আনার জন্য ২০০টি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ছোটো গাড়িও থাকছে। জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব সোমবার পড়িহাটী এসে বৈঠক করেছে। পড়িহাটীর প্রগতি ময়দানে এদিন সকাল থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা যায়। সভা ময়দান লাগোয়া পড়িহাটী চক, হাটতলা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা দিয়েছে। জামবনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মধুসূদন মুর্মু বলেন, মঞ্চ তৈরির কাজ পুরোদমে চলছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে সভা করতে আসছেন। জেলার নানা দুর্গম এলাকা থেকেও কর্মীসমর্থকরা আসবেন। এবার বিনপুরে আমাদের জয়ের ব্যবধান বাড়বে। বিনপুরের বিজেপি নেতা মাসাং টুডু বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে কোনো প্রভাব পড়বে না। জঙ্গলমহলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। মানুষ তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফেরাচ্ছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ সাজাদ আলি বলেন, এলাকায় বিজেপির তেমন সংগঠন নেই। বিনপুরের মানুষ বীরবাহা হাঁসদাকে ঘরের মেয়েই মনে করেন। এবার ভোটে আমরাই জিতব।