নন্দীগ্রামে বহু সংখ্যালঘুর ভোট-ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তালিকায় নেই তৃণমূল নেতা সুপিয়ানের স্ত্রীর নাম
বর্তমান | ২৫ মার্চ ২০২৬
শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: বাবার সঙ্গে ছেলের বয়সের তফাত ৫৭বছর। এজন্য সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্টে নাম উঠল না নন্দীগ্রামের প্রাক্তন উপপ্রধানের ছেলের। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহম্মদপুর পঞ্চায়েতের ৬৩নম্বর বুথের ঘটনা। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে ২০০৫-’০৮ পর্যন্ত উপপ্রধান ছিলেন কুতুবউদ্দিন খান। তাঁর এখন বয়স ৮৫বছর। তাঁর ছেলে আসফাক খানের বয়স ২৮বছর। বাবা-ছেলের বয়সের তফাত ৫০এর ঊর্ধ্বে হওয়ায় নোটিস পেয়েছিলেন আসফাক। সেখানে হাজির হয়েছিলেন। তারপর অ্যাডজুডিকেশন ভোটার লিস্টে নাম চলে যায়। বিচারক নথি যাচাই করেছেন। সোমবার রাতে প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে ‘নট এলিজিবল’ লিস্টে আসফাকের নাম উঠেছে। শুধু আসফাক নয়, জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহ সভাধিপতি তথা তৃণমূল নেতা শেখ সুপিয়ানের ৬০বছর বয়সি স্ত্রী রহিমা বিবির নামও বাদের তালিকায়। কমিশনের প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে এভাবেই প্রচুর ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। আপাতত ওই ভোটারদের ভরসা ট্রাইবুনাল। সেই ট্রাইবুনাল জেলায় কবে থেকে বসবে, কোথায় বসবে এখনও কোনও স্পষ্ট নির্দেশ আসেনি বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল বলেন, আমাদের জেলায় মোট ৮০হাজার অ্যাডজুডিকেশন ভোটার ছিলেন। তারমধ্যে প্রায় ৭০হাজার ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজ করেছেন বিচারকরা। এলিজিবল এবং নট এলিজিবল সম্পূর্ণ লিস্ট এখনও আসেনি। বুথস্তরে অনলাইনে এটা দেখা যাচ্ছে। যাঁদের নাম থাকবে না তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন।নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ১৭টি বুথ। ৫৪-৬০পর্যন্ত বুথের লিস্ট অনলাইনে দেখা যাচ্ছে না। অর্থাৎ ভেরিফিকেশন হয়নি বলে অনুমান। ৬১নম্বর বুথে অ্যাডজুডিকেশন ভোটারদের মধ্যে ২৬জন, ৬২নম্বর বুথে ৩২জন, ৬৩নম্বর বুথে ৭৯জন, ৬৪নম্বর বুথে ন’জন, ৬৫নম্বর বুথে ১৩জন, ৬৬নম্বর বুথে ২৫জন, ৬৭নম্বর বুথে ১১জন, ৬৮নম্বর বুথে ১০জন, ৬৯নম্বর বুথে ২১জন এবং ৭০নম্বর বুথে চারজন ভোটারকে বাতিল করা হয়েছে।
কেন্দামারি-জালপাই, মহম্মদপুর, নন্দীগ্রাম, সামসাবাদ, দাউদপুর প্রভৃতি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথে অ্যাডজুডিকেশন বহু ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। মহম্মদপুর ৬৩নম্বর বুথে শেরাফত হোসেনের ২০০২সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। অ্যাডজুডিকেশন ভোটার লিস্টে থাকা তাঁর দুই ছেলে শেখ হাবিব ইসলাম এবং শেখ সাবির হোসেনের নাম বাদ পড়েছে। ২০০২সালের ভোটার লিস্টে তাঁদের বাবার নাম শেরাফত হোসেন আছে। কিন্তু, দুই ছেলের যাবতীয় নথিতে বাবার নাম শেখ সেরাফত। এই নাম বিভ্রাটে দুই ছেলের নাম বাদ গিয়েছে। আবার, ওই বুথে ২০০২সালে তাহেরা খাতুনের নাম বদল হয়ে পরবর্তীতে ২০২৫সালে তাহেরা বিবি হয়। জন্ম সার্টিফিকেট, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট দেখাতে না পারার জন্য সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট থেকে তাঁর নামও বাদ পড়েছে। ৬৩নম্বর বুথের বিএলও সাবির মহম্মদ বলেন, অ্যাডজুডিকেশন ভোটাররা জন্ম সার্টিফিকেট, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট সহ কমিশন নির্ধারিত ১৩টি নথির যে কোনো একটি দেখাতে না পারার কারণে অনেক নাম বাদ। অথচ, তাঁরা বয়স্ক এবং দীর্ঘ দিনের ভোটার।তৃণমূল নেতা শেখ সুপিয়ান বলেন, আমার স্ত্রী ১৯৮৬ সাল থেকে ভোটার। অথচ, তার নাম বাদ দিল কমিশন। এখন ট্রাইবুনালে যাওয়া ছাড়া কোনও উপায় নেই।