• টাকা দেয়নি বিজেপি দিল্লির গৃহবধূদের সতর্কবার্তা, কথা রাখেনি রেখা গুপ্তার সরকার
    বর্তমান | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: আসানসোলের গোপালপুর এলাকায় থাকেন গৌতম পাল। তাঁর স্ত্রী অবাঙালি, নাম সঙ্গীতা সিং। সঙ্গীতার দিদি সুনীতা সিং দিল্লির বাসিন্দা। কথায় কথায় সঙ্গীতা সুনীতাকে জানিয়েছেন, দিল্লিতে মহিলা সমৃদ্ধি যোজনায় প্রতি মহিলাকে আড়াই হাজার টাকা দেবে বলেছিল বিজেপি। কেউ টাকা পায়নি। গৃহকর্তা গৌতম পাল বলেন, বিজেপি যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দিল্লিতে সরকারে আসার পর সেসব পূরণ করেনি। আমাদের আত্মীয়রাই সেখানে থেকে বলছে। কোন ভরসায় বাংলার মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করবে। 

    শুধু গৌতম পালের পরিবারে নয়, শিল্পাঞ্চলে বাসবাসকারী মহিলাদের মধ্যেই এখন বিজেপির প্রতিশ্রতি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। মিশ্র সংস্কৃতির এলাকা আসানসোল, দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল। 

    এখানে বহু অবাঙালি পরিবার রয়েছে, তাঁদের আত্মীয়রা দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে। দিল্লির বাসিন্দারা অনেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে তাঁদের হতাশার কথা জানিয়েছেন বাংলার মহিলাদের। তাঁদের দাবি, প্রায় এক বছর হয়ে গিয়েছে সরকার বদলের। বহু মহিলাই এখনও মহিলা সমৃদ্ধি যোজনার টাকা পাননি। শিল্পাঞ্চলে যা নিয়ে আলোচনায় মুখর মহিলা মহল। যার ফলে বিজেপি মহিলা ভোট ভাঙানোর যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা অধরাই থেকে যাবে বলে আন্দাজ পোড় খাওয়া বিজেপি নেতাদের। 

    এবছর যেমন বাংলা দখলে মরিয়া বিজেপি, ২০২৫ সালে একই ভাবে দিল্লি বিধানসভায় জিততে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে বিজেপি। দিল্লি ভোটের প্রাক্কালে  ‘বিকশিত দিল্লি’ নামে যে ‘সংকল্পপত্র’ বের করেছিল বিজেপি, সেখানে ‘ওমেন এমপাওয়ারমেন্ট’-এর প্রথম পয়েন্টেই উল্লেখ ছিল, মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা প্রকল্পে গরিব পরিবারের মহিলাদের আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। দিল্লির মহিলারা সেই প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রেখেছিল। কিন্তু এক বছর পরেও টাকা না পেয়ে গেরুয়া শিবিরের প্রতি মোহভঙ্গ হয়েছে তাঁদের। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রচারে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া সেলের যোদ্ধারা। তাঁরা ভিডিও বানিয়ে প্রচার করবেন, কীভাবে দিল্লিতে বিজেপি সাধারণ মানুষকে ভাঁওতা দিয়ে ভোট নিয়েছে। সেখানেই অশনি সংকেত দেখছে বিজেপি।

    বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক অরিজিৎ রায় বলেন, বিজেপি সরকার যোগ্যদের হাতেই প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা তুলে দেয়। তাঁর জন্য তথ্য যাচাই হয়। সেই কারণে কোনো প্রকল্পের সুবিধা পেতে সময় লাগে। বিজেপি যা কথা দেয়, সেই কথা রাখে। এখানেও মহিলারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন।

    অন্যবারের থেকে উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী যখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেন, তখন অনেক বিজেপি নেতাই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন। তাঁতে যে উল্টো ফল হয়েছে নির্বাচনের রেজাল্টেই তা সামনে আসে। তাই এবার তাঁরা ৩ হাজার টাকা করে মেয়েদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বিজেপি প্রার্থীরা। কিন্তু মহিলাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনায় সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছেন। 

    তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, বিজেপি মানুষকে ভাঁওতা ছাড়া কিছু দেয়নি। মহিলাদের টাকা দিতে চাইলে কেন্দ্রীয় সরকার তা করল না কেন। কেন্দ্রে তো ১২ বছর আছে বিজেপি। 
  • Link to this news (বর্তমান)