তামিম ইসলাম, ডোমকল: পরনে সাদা পাঞ্জাবি, সঙ্গে জিন্স প্যান্ট। মাথায় কখনও গোল টুপি, কখনও আবার খালি মাথা। হাতে লাল ঝান্ডা। এভাবেই দিনভর রানিনগর বিধানসভা জুড়ে কার্যত চষে বেরিয়ে প্রচার সারছেন সিপিএম প্রার্থী জামাল হোসেন। রানিনগরের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা বিদায়ী বিধায়ক সৌমিক হোসেনের বিরুদ্ধে যুব সংগঠন থেকে উঠে আসা এই তরুণ মুখের উপরেই ভরসা রেখেছে দল। আর তাতেই অল্প কয়েকদিনের প্রচারেই এলাকায় সাড়া ফেলেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বাম জমানার শেষদিকে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা ভেঙে তৈরি হয় রানিনগর বিধানসভা। রানিনগর ১ ও ২ ব্লকের মোট ১১টি অঞ্চল নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র। এতদিন এই আসনে সরাসরি লড়াইয়ের বদলে হয় শরিক দল, নয় কংগ্রেসকে সমর্থন দিয়ে এসেছে সিপিএম। তবে এবারে প্রথমবার সরাসরি নিজেদের প্রতীকে লড়াইয়ে নেমেছে তাঁরা। ফলে কর্মীদের মধ্যে যেমন উৎসাহ বেড়েছে, তেমনই গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে মুর্শিদাবাদ লোকসভার ৭ টি বিধানসভার একমাত্র এই আসনে সিপিএমের লিড থাকায় বাড়তি আত্মবিশ্বাসও পাচ্ছে বামেরা।
এই অবস্থায় প্রার্থী করা হয়েছে যুব সংগঠন থেকে উঠে আসা জামাল হোসেনকে। ২০০১ সাল থেকে ডিওয়াইএফআই-য়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর ২০১২ সালে ওই সংগঠনের তিনি জেলার সম্পাদক হন। টানা পাঁচ বছর সেই দায়িত্ব সামলানোর পর খেতমজুর সংগঠনে যোগ দেন এবং বর্তমানে সারা ভারত খেতমজুর ইউনিয়নের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক পদে রয়েছেন। মাঠে-ময়দানে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতাই তাঁকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছে দল।
ক্যামেরার ঝলকানির বদলে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জনাকয়েক কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় প্রচার করে চলেছেন তিনি। বিশেষ করে খেতমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হচ্ছে বলেই দাবি সিপিএমের।য জামালসাহেব বলেন, এলাকায় ভালো সাড়া পাচ্ছি। মানুষ আমাদের দেখে নিজেদের সমস্যার কথা বলছে। কৃষক-খেতমজুররা আমাকে ঘরের ছেলের মতো গ্রহণ করছেন। সারাদিন ঘোরার মধ্যে অনেকেই চা, মুড়ি খাওয়াচ্ছেন। তবে মানুষ এসআইআর নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে। তাঁদের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, আমরা তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছি। অন্যদিকে ওই বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী রানা প্রতাপ সিংহও প্রচার শুরু করেছেন। তবে তৃণমূল, সিপিএম ও বিজেপি যখন মাঠে নেমে পড়েছে, তখনও প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় কংগ্রেসের প্রচার পুরোপুরি গতি পায়নি।
রানিনগর ২ ব্লক কংগ্রেস সভানেত্রী মমতাজ বেগম হীরা বলেন, প্রার্থী ঘোষণার বিষয়টি শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে। প্রার্থী ঘোষণা হলে প্রচারের মাত্রাটা আরও বেড়ে যেত। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। তবে যাই হোক, প্রার্থী না ঘোষণা হলেও কর্মীরা এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। এই আসন একসময় কংগ্রেসের দখলে ছিল, আমরা সেই জায়গা ফিরে পাব বলে আশাবাদী।
এদিকে ওই আসনে তৃণমূল এবারেও ভরসা রেখেছে বিদায়ী বিধায়ক সৌমিক হোসেনের উপর। ২০২১ সালে এই আসনে জয়ী হওয়ার পর এলাকায় তাঁর যথেষ্ট প্রভাব তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সিপিএম তাঁদের মতো করে লড়াই করছে, তারা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে মানুষ উন্নয়ন দেখেই ভোট দেবে।