রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় রামের ভোট বামে ফেরাতে মরিয়া সিপিএম। প্রচারে বের হয়ে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে বামেরা সরব হচ্ছে। সিপিএম নেতা-কর্মীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তৃণমূলের থেকে বিজেপিকে বেশি আক্রমণ করছে। কারণ, গত কয়েকটি নির্বাচনে তৃণমূল নিজেদের ভোট ধরে রাখলেও বাম ভোটাররা বিজেপি-র দিকে ঝুঁকেছেন। সেই পরিস্থিতির উলটপুরাণ করতে সিপিএম উঠেপড়ে লেগেছে।
বাঁকুড়ার সিপিএম প্রার্থী তথা দলের রাজ্য কমিটির সদস্য অভয়ানন্দ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের ভুল বুঝে অনেকে বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন। তাঁরা ফের নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে লালঝান্ডার তলায় ফিরে আসছেন। বিজেপি প্রতিশ্রুতি আর ধোঁকা ছাড়া মানুষকে কিছু দিতে পারেনি। ওরা বিভাজনের রাজনীতি করে বাংলায় টিকে থাকতে চাইছে। তবে বিজেপি-র পাশাপাশি আমরা তৃণমূলের দুর্নীতি, স্বজনপোষণ নিয়েও সরব হচ্ছি। তৃণমূলের জন্যই বাংলায় বিজেপি-র বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপিকে একসঙ্গে পরাস্ত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এবার বাঁকুড়াবাসী আমাদেরই সমর্থন করবে।
ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নীলাদ্রিশেখর দানা বলেন, সিপিএম এখন ভোটকাটুয়া দলে পরিণত হয়েছে। ওরা ভোট কেটে তৃণমূলের সুবিধা করে দিতে চাইছে। দু’দিন আগেই তৃণমূলের সঙ্গে সিপিএমের গলাগলি বাঁকুড়াবাসী দেখেছে। অপ্রাসঙ্গিক সিপিএমকে নিয়ে যত কম বলা যায়, ততই ভালো। বাঁকুড়া গেরুয়াময় হয়ে গিয়েছে। ভোটের ফলাফলের দিনেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, সিপিএম খাল কেটে বিজেপি নামক কুমিরকে এনেছে। ওরা তৃণমূলের বিরোধিতা করতে গিয়ে বিজেপি-র ভোটবাক্স পুষ্ট করেছে। এখন বিজেপি-র আসল স্বরূপ বুঝতে পারছে। বিজেপিতে চলে যাওয়া ভোট সিপিএম পুনরুদ্ধার করতে চাইলে আমাদের কিছু বলার নাই। তবে ওই দুই দল দ্বিতীয় স্থানে থাকার জন্য এবার লড়াই করছে। তৃণমূল এক নম্বরেই থাকবে। উল্লেখ্য, গতবার বাঁকুড়া জেলায় ১২টি বিধানসভা আসনের মধ্যে বিজেপি আটটি দখল করে। তৃণমূল চারটিতে জয় পায়। এর আগে বিজেপি এজেলায় এত ভালো ফল করেনি। রকেট গতিতে বিজেপি-র উত্থান হলেও লালমাটির জেলায় সিপিএম মুখ থুবড়ে পড়ে। বামেদের ভোটব্যাংকে ব্যাপক ধস নামে। ২০১৬ সালে জেলায় বাম-কংগ্রেস জোট একাধিক আসনে জয় পায়। পাঁচ বছরের মাথায় তারা শূন্যে নেমে যায়। এর পিছনে ২০১৯ সালে তৃণমূলকে বেগ দিতে জেলার দুই আসনে নীচুতলায় সিপিএমের ভোট বিজেপিতে চলে যাওয়া কারণ বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। ওই বছর জেলার দু’টি লোকসভা আসনেই বিজেপি জয় পায়। প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ ও পোড়খাওয়া তৃণমূল নেতাকে বাঁকুড়া আসনে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়। ওই ভোটে সিপিএম কার্যত নিজের নাক কেটে তৃণমূলের যাত্রাভঙ্গ করেছিল। নিজেদের কর্মের ফল সিপিএমকে ভোগ করতে হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের দাবি। তাঁদের মতে, এখনো ভুলের খেসারত তাদের দিতে হচ্ছে। যদিও বিজেপি-র প্রতি বাঁকুড়াবাসীর মোহভঙ্গ হয়েছে। গত পাঁচ বছরে জঙ্গলমহলের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার আলাদা করে কিছু করেনি। রেল পরিষেবা নিয়ে বাঁকুড়াবাসী বিরক্ত। ফলে বিজেপি-র ভোটাররা বিকল্প নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। বিভিন্ন কারণে তৃণমূলকে পছন্দ করেন না এমন ভোটাররা ফের সিপিএমের দিকে ঝুঁকছেন। ছাঁন্দারে প্রচারে বড়জোড়ার বাম প্রার্থী সুজিত চক্রবর্তী।