• সিংহভাগ মহিলা, মুসলিম নাম বাদ
    বর্তমান | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: সোমবার মধ্যরাতে চুপিসারে ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের প্রথম তালিকা প্রকাশের পর থেকেই মুখে কুলুপ এঁটেছে কমিশন। তালিকায় কতজন যোগ্য ভোটার? বাদের তালিকায় কারা? ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উত্তর নেই কমিশনের। তাহলে কি ইচ্ছাকৃত কিছু আড়াল করার চেষ্টা? প্রশ্ন উঠছেই। কারণ যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে একটা বিষয়েই নজর যাচ্ছে—বাদের তালিকায় সিংহভাগ মহিলা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। 

    বাছাই করে নাম বাদ—এই অভিযোগ এসআইআরের প্রথম পর্ব থেকেই করে এসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চূড়ান্ত তালিকার প্রথম পর্ব প্রকাশের পরও স্পষ্ট হয়েছিল একটিই সমীকরণ, ‘টার্গেট সংখ্যালঘুরা!’ শুধু তৃণমূলের দাবিতে নয়, কাগজে-কলমেও দেখা গিয়েছিল, যে সব সংখ্যালঘু কেন্দ্রে গত বিধানসভা ভোটে রাজ্যের শাসক দল জিতেছিল, সেগুলির সিংহভাগ ভোটারদেরই ‘বিচারাধীন’ হিসাবে সাইডলাইনের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর প্রথম তালিকা প্রকাশের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই অভিযোগ ক্রমশ দিনের আলো পাচ্ছে। কমিশন সংখ্যাতত্ত্ব চেপে গেলেও তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, বাদ যাওয়া ভোটারদের সিংহভাগই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তার মধ্যে বেশির ভাগই আবার মহিলা। বিচারাধীন তালিকায় সবচেয়ে বেশি নাম ছিল মালদহ ও মুর্শিদাবাদে। গভীর রাতের ‘বিভ্রান্তি’র তালিকায় দেখা যাচ্ছে, মালদহের সুজাপুরে পুরুষের তুলনায় ২১ শতাংশের বেশি মহিলার নাম নেই। আর বাদ যাওয়াদের সিংহভাগই সংখ্যালঘু। মালতিপুরে আবার ৬৭.৪ শতাংশ বিচারাধীন মহিলা ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। বেশিরভাগই মুসলিম। মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে বিচারাধীন তালিকায় ছিলেন ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৭ জন ভোটার। প্রথম তালিকায় এখানে বাদের সংখ্যা ২৫ হাজার। শুধু বিধানসভার বুথভিত্তিক বাদের হিসাবেও বাদ পড়াদের মধ্যে মহিলা বেশি। রঘুনাথগঞ্জে ১ নম্বর পার্টে একটি বুথে মোট ৫৬ জন ভোটার বাদ পড়েছেন, তার ৪৮ জনই মহিলা। সুতি বিধানসভার ১ নম্বর পার্টের উল্লাপাড়া প্রাইমারি স্কুল বুথে বাদ পড়া বিচারাধীন ভোটারের ১৩৭ জনের সকলেই সংখ্যালঘু। তার মধ্যে মহিলা ৭৮ জন। রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে ঝিটকার এক বুথে ১১৬ জন ভোটার বাদ পড়েছেন। তার ১১৫ জনই মুসলিম।

    সংখ্যালঘু প্রভাবিত উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট উত্তর বিধানসভার ৫ নম্বর বুথে ৩৪০ জন বিচারাধীন ভোটার ছিলেন। তালিকা প্রকাশের পর সকলেরই নাম বাদ পড়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সকলেই মুসলিম।  হাইভোল্টেজ আসন নন্দীগ্রামের মহম্মদপুরের ৬৩ নম্বর বুথে ৭৯ জন বাদ পড়েছেন। সকলেই মুসলিম। এর মধ্যে ৩৩ জন মহিলা। এখানেই শেষ নয়। খাস কলকাতায় এন্টালির ১ নম্বর বুথে বাদ যাওয়া ৮৪ জনের মধ্যে ৫৪ জনই মহিলা। কেতুগ্রামে ৭৯ নম্বর সংখ্যালঘু প্রভাবিত বুথে ৩৬৮ জনের নাম বাতিলের তালিকায় রয়েছে। নাকাশিপাড়া মাঝেরগ্রাম পঞ্চায়েতের ৩০ নম্বর বুথে ১৬০ জনের নাম বাদ পড়েছে। তার এক বড়ো অংশ সংখ্যালঘু। হাসন বিধানসভার বাঁধখালা গ্রামের ৪৫৬ জন মুসলিম ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। তার মধ্যে একটি বুথেই বাদ পড়েছেন ২২৭ জন। 
  • Link to this news (বর্তমান)