আইপ্যাক মামলা: ইডি ঘটনাস্থলেই ছিল না, সওয়াল রাজ্য সরকারের
বর্তমান | ২৫ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আইপ্যাক মামলায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো মামলাই করতে পারে না এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এটি সংবিধান বিরুদ্ধ। চাইতে পারে না সিবিআই তদন্তও। একইভাবে রবীন বনসল নামে ইডির যে আধিকারিক সুপ্রিম কোর্টে মামলা ঠুকেছেন, তিনি তো ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। তাহলে তিনি কাজে বাধা পেয়েছেন বা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, এমন অভিযোগই বা কী করে যুক্তিসঙ্গত? মঙ্গলবার আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে এই প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কপিল সিবাল।
যদিও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চের পালটা প্রশ্ন, কিন্তু স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীই যদি ইডির কাজে বাধা দিতে আসেন, তাহলে তারা কোথায় যাবে? রাজ্য পুলিশের কাছে তদন্ত চাইবে? তাই ইডির অধিকারের মতো বৃহত্তর বিষয় নিয়ে সওয়াল করার পাশাপাশি সেদিন কী ঘটেছিল বা সেটি অভিপ্রেত ছিল কি না, সেসবও দেখুন। আমরা এই মামলা শুনব। নিষ্পত্তিও করব। তবে এই বিষয়টিও মনে রাখুন। বিচারপতি মিশ্র বলেন, ঘটনাস্থলে না থাকলেও, এও তো হতে পারে যে রবীন বনসল শ্যাডো অফিসার হিসাবে ছিলেন।
কপিল সিবাল পালটা বলেন, আদালতের উচিত নয় কোনো অভিযোগকে সত্য ঘটনা বলে ধরে নেওয়া এবং তার ভিত্তিতে ইডির এই আবেদন গ্রহণ করা। কারণ, এখনও অভিযোগের তদন্তই হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে এদিন মামলায় আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও সওয়াল করেন। রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারের হয়ে অভিষেক মনু সিংভি। বিভিন্ন রায়ের অংশ উল্লেখ করে ইডির অধিকারের প্রশ্ন তুলে তাঁরা রাজ্য সরকার সহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই মামলা বাতিলের আবেদন চালিয়ে যান। আগামী ১৪ এপ্রিল ফের শুনানি হবে। উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি কলকাতায় তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রতীক জৈনের বাড়ি, অফিসে পুরানো এক কয়লা মামলার তদন্তের নামে হানা দেয় ইডি। খবর পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে যান এবং ইডির বাজেয়াপ্ত করা কিছু তথ্য ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান বলেই তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ। তাই সুপ্রিম কোর্টে এসেছে ইডি।