নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: লোকসভা বা বিধানসভার ভোট এলেই খড়দহের ইস্যু হয়ে ওঠে রেলওয়ে উড়ালপুল। কয়েক দশকের যানজট যন্ত্রণার আদৌ অবসান হবে? নাকি ফের আগামী ভোটের ইস্যু হয়ে রয়ে যাবে বিষয়টি? এই প্রশ্নে আবর্তিত হচ্ছে খড়দহ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের প্রচার।
উত্তর শহরতলির অন্যতম প্রাচীন ও ইতিহাস সমৃদ্ধ জনপদ খড়দহ। পাশেই পানিহাটি, কামারহাটিতে রেলওয়ে উড়ালপুল থাকলেও খড়দহে তা অধরা। অথচ, রহড়ায় নিত্যনতুন আবাসনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জনসংখ্যা। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার পর খড়দহ স্টেশন রোডে গাড়ির চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। বাইক, রিকশ, অটো, চারচাকা, লরি মিলিয়ে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে ৮ থেকে ১০ হাজার গাড়ি যাতায়াত করে। শিয়ালদহ মেইন লাইনে দিনের ব্যস্ত সময়ে ১০ মিনিট অন্তর ট্রেন থাকে। সেই মতো রেলগেট বন্ধ করতে হয়। আর তখনই রেললাইনের দু’দিকে দাঁড়িয়ে পড়ে শ’য়ে শ’য়ে গাড়ি। আটকে থাকা সব গাড়ি লাইন পেরনোর আগেই আবার গেট পড়ে যায়। বাড়তি ১৫-২০ মিনিট হাতে না নিয়ে বেরলে সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোই কঠিন হয়ে পড়ে। কখনও আবার রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলে রেলগেট বন্ধই করা যায় না। তখন ট্রেনকে অতিরিক্ত সময় স্টেশনে দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়। ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনা লেগেই থাকে।
বাম জমানায় এখানে ফ্লাইওভার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের বিক্ষোভে তা আটকে যায়। পরে তৃণমূল বিধায়ক অমিত মিত্রের সময়ে পূর্তদপ্তর সহ বিভিন্ন সরকারি এজেন্সি সার্ভে করেছিল। কিন্তু জায়গার সমস্যা, অধিগ্রহণ সমস্যা, বিপুল ক্ষতিপূরণ সহ নানা কারণে তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। শহরবাসীর দুর্ভোগ নিত্যদিন বাড়লেও উড়ালপুল আজও খড়দহবাসীর স্বপ্ন হয়ে থেকে গিয়েছে। এই অবস্থায় সিপিএম এবার বহু আগে থেকে এই ইস্যুতে ময়দানে নেমেছে। যাদবপুরের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞদের এনে গত জানুয়ারি ও মার্চে দুই দফায় সার্ভে করিয়েছে তারা। সেই রিপোর্ট দেখিয়ে খড়দহের সিপিএম প্রার্থী দেবজ্যোতি দাস বলেন, ‘এই ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য হবে ৮৩০ মিটার। সাড়ে আট মিটার চওড়া দুই লেনের ফ্লাইওভার তৈরির জন্য একটিও দোকান, বাড়ি ভাঙা পড়বে না। বরং ফ্লাইওভারের নীচে আধুনিক বাজার গড়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। খরচ হবে ১৩০ কোটি টাকা।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০০৮ সালে উড়ালপুল তৈরিতে অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। সেই কাজ আটকে দিয়েছিল তৃণমূল। গত ১৫ বছর ধরে আশ্বাস দিলেও তৃণমূল কিছু করেনি। আমি জিতলে এক বছরের মধ্যে এই কাজ করব। এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ।’ জেলা তৃণমূলের সভাপতি পার্থ ভৌমিক সিপিএমের এই পদক্ষেপকে ‘লোক দেখানো’ বলে কটাক্ষ করে বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী জয়লাভ করলে নিশ্চিতভাবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। রেললাইন ও সংলগ্ন এলাকা কেন্দ্রীয় সরকারের। তারা যেভাবে বাংলাকে বঞ্চনা করছে, তাতে আমরা সরাসরি কথা দিতে পারছি না। তবে আমরাই সমস্যার সমাধান করতে পারি।’ বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, ‘সিপিএম ও তৃণমূল এতদিন ক্ষমতায় থেকেও কিছু করেনি। ব্যবসা-বাণিজ্য, বসতবাড়ি বাঁচিয়ে খড়দহের স্বার্থে আধুনিক উড়ালপুল তৈরি করবে বিজেপি সরকার।’