অর্ক দে, কলকাতা: ‘ডবল ইঞ্জিন’য়ের পাল্টা ‘ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিন’। তৃণমূলের ভোট প্রচারে সেটাই হাতিয়ার। উন্নয়নের কাজে কাউন্সিলার, বিধায়ক, রাজ্য সরকার এবং সাংসদ এক যোগে কাজ করছেন। এই ভরসা দিয়ে প্রচার-ময়দান কাঁপাচ্ছে জোড়াফুল।
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’ ও বিধানসভা এবং অঞ্চলভিত্তিক কাজের খতিয়ান ও ‘প্রতিজ্ঞা’র ডালি নিয়ে ঘুরছেন তৃণমূল প্রার্থীরা। কলকাতাজুড়ে সেভাবেই তৈরি হয়েছে নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি। দলীয় সূত্রে খবর, কলকাতা বা শহরতলি নয়, রাজ্যের ২৯১টি বিধানসভা অঞ্চলে ওয়ার্ড বা ব্লক বা পঞ্চায়েত অঞ্চলে গিয়ে এমন ‘প্রতিজ্ঞা’ করা হচ্ছে মানুষের কাছে। প্রতিটি বিধানসভায় কী কাজ হয়েছে এবং আগামী দিনে কী কাজ হবে, তার তালিকা দিয়ে তৈরি হয়েছে লিফলেট। পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক কাজের বুকলেট বা লিফলেট তৈরি হয়েছে। তা বিলি করা হবে বা হচ্ছে। ওয়ার্ডভিত্তিক ‘প্রতিজ্ঞা’ পত্রে থাকছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে বা অঞ্চলে সেই বিধায়ক কী কাজ করেছেন তার খতিয়ান। নিকাশি, পানীয় জল, কমিউনিটি হল, সৌন্দর্যায়ন, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র, আলোর ক্ষেত্রে বিধায়ক তহবিলের টাকা কোথায় কোথায় পুরসভার মাধ্যমে খরচ হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে আরও কী কাজ হবে, তার হিসেব থাকছে বুকলেটে।
অর্থাৎ বিধানসভা ভোটের প্রচারে ওয়ার্ডভিত্তিক কাজের খতিয়ান? তৃণমূলের প্রার্থীরা জানিয়েছেন, পুরসভার মাধ্যমে তৃণমূলস্তরে উন্নয়নের কাজ হচ্ছে। বিধায়ক তহবিলের টাকায় একাধিক কাজ হয়েছে বা হবে। এছাড়া মাথার উপরে রয়েছে রাজ্য সরকার। মানুষের কাছে একাধিক সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ‘দুয়ারে সরকার’ কিংবা ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির মতো প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক পরিকাঠামোর উন্নতি হচ্ছে। পাশাপাশি সাংসদ বা বিধায়ক তহবিলের টাকায় অ্যাম্বুল্যান্স থেকে স্কুলের স্মার্ট ক্লাস বা কমিউনিটি হল ইত্যাদির উন্নয়ন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি ডবল ইঞ্জিন সরকারের কথা বলে। আমরা ‘ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিন’ উন্নয়নের কথা বলছি। কারণ পুরসভা, বিধায়ক, রাজ্য সরকার কিংবা সাংসদ সবরকম ভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্রতী। প্রচারে সেই ‘ভরসা’র কথাই মনে করানো হচ্ছে মানুষকে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এভাবেই কৌশল সাজিয়েছে ঘাসফুল শিবির। অন্যদিকে, এদিন চেতলা নাইন বি অঞ্চলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ সারেন ফিরহাদ হাকিম। ৮৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালিগঞ্জ অঞ্চলে জনসংযোগ করেন রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কাউন্সিলার সৌরভ বসু। এদিন সকালে ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডে বামুনপাড়া মহেন্দ্র চ্যাটার্জি লেন থেকে প্রচার শুরু করেন এন্টালি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সন্দীপন সাহা। বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় সকালে বড়িশা চণ্ডীমন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন। বাড়ি বাড়ি ঘুরে জনসংযোগ সারেন। বিকেলে ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডে সভা করেন। অন্যদিকে কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থী রাজেন্দ্র গুপ্তা ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পাইকপাড়া, দমদম, বেলগাছিয়া অঞ্চলে জনসংযোগ সারেন। কসবায় এদিন প্রচারে বেরন বামপ্রার্থী দিপু দাস। সিপিএমের প্রার্থীর কাছে ভাতা না পাওয়ার অভিযোগ জানান স্থানীয়রা।