• সম্পর্কে টানাপোড়েনের জের ভরদুপুরে গড়িয়ার বিউটি পার্লারে ঝগড়া, গলায় ক্ষুর, গৃহবধূকে খুনের পর আত্মঘাতী প্রেমিক
    বর্তমান | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভরদুপুরে রক্তারক্তি কাণ্ড গড়িয়ায়। বিউটি পার্লারে ঢুকে ক্ষুর দিয়ে মহিলার গলার নলি কেটে খুন করে আত্মঘাতী হলেন যুবক। প্রেমের সম্পর্কে টানাপড়েনের জেরে এই কাণ্ড বলে দাবি স্থানীয়দের। খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় নরেন্দ্রপুর থানার গড়িয়ার তেঁতুলতলায়। মৃতদের নাম রূপবাণী দাস ওরফে পম্পা (৪৫) ও পঙ্কজ নাথ (৪০)। রূপবাণী ওই বিউটি পার্লারের মালিক। পঙ্কজ হরিয়ানার বাসিন্দা। 

    স্থানীয়দের দাবি, গড়িয়া মহামায়াতলার বাসিন্দা রূপবাণীদেবীর সঙ্গে হরিয়ানার যুবক পঙ্কজ নাথের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। মাস ছয়েক আগে বাড়ি থেকে বেপাত্তা হয়ে যান মহিলা। তাঁকে না পেয়ে নরেন্দ্রপুর থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেছিলেন বধূর পরিবারের লোকজন। মাস দেড়েক আগে মহিলা নিজেই বাড়ি ফিরে আসেন। সোমবার রাতে কলকাতায় আসেন হরিয়ানার যুবক। বিউটি পার্লারের পাশে থাকা ব্যবসায়ীদের দাবি, এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি পার্লারে যান রূপবাণীর সঙ্গে দেখা করতে। তখনই দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে ঝগড়া শুরু হয়।

    অভিযোগ, পঙ্কজ একটি ক্ষুর নিয়ে প্রেমিকার গলায় চালিয়ে দেন। এরপর নিজের গলা কাটেন। তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। বধূকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। 

    তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, পঙ্কজের সঙ্গে অনেকদিন ধরে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন রূপবাণী। বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে মাস তিনেক হরিয়ানায় ছিলেন তিনি। যদিও বাকি তিন মাস কোথায় ছিলেন, সেটার উত্তর নেই পুলিশের কাছে। তদন্তকারীদের অনুমান, দুজনের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় রূপবাণীদেবী ফিরে আসেন স্বামীর বাড়িতে। তারপর থেকে প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল বধূর। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এদিন দুপুরে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, পার্লারে কর্মরত এক মহিলা কর্মীকে হঠাৎ রাস্তায় বেরিয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর কাছ থেকে জানতে চান, কিছু সমস্যা হয়েছে কি না। তখন তিনি বলেন, ভিতরে এক যুবকের সঙ্গে পম্পাদির ঝামেলা হচ্ছে। খবর দেওয়া হয় রূপবাণীদেবীর স্বামীকে। তিনি এসে দেখেন, তাঁর স্ত্রী ও ওই যুবক গলার নলি কাটা অবস্থায় পড়ে আছেন। পঙ্কজের হাতে ক্ষুর। তিনি ছটফট করতে করতে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তখনও শ্বাস চলছিল বধূর। তড়িঘড়ি তাঁকে পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে ওই মহিলার। 

    ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, দোকানের বাইরে ও ভিতরে চাপ চাপ রক্ত পড়ে রয়েছে। জায়গাটি ঘিরে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছে।

    তদন্তকারীদের কাছে এখন একাধিক প্রশ্ন। কীভাবে পঙ্কজের সঙ্গে রূপবাণীর আলাপ হয়েছিল? মৃতের স্বামীকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলেন তদন্তকারীরা। তবে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। কী নিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত যার জন্য এত বড়ো কাণ্ড ঘটে গেল, সেটাও স্পষ্ট নয়। আপাতত রূপবাণীদেবীর বাড়ির লোকজনকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে পুলিশ। মৃত যুবকের পরিবারের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। 
  • Link to this news (বর্তমান)