• ফ্লেক্সের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে দেওয়াল লেখার শিল্প
    বর্তমান | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • সুজয় মণ্ডল, বসিরহাট: ফ্লেক্সের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে চিরাচরিত দেওয়াল লিখন। নির্বাচন এলে আগে দেওয়াল লেখার শিল্পীদের নাওয়া-খাওয়া বন্ধ হয়ে যেত। প্রার্থী পরিচয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ছড়া নকশার মাধ্যমে আকর্ষণীয় করে দেওয়ালে লেখা হতো। কার লেখা কত সুন্দর হবে, তা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নামতেন বিভিন্ন দলের কর্মীরা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্লেক্সের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে চিরাচরিত সেই দেওয়াল লিখনের সংস্কৃতি। ফলে অর্থের অভাবে ভুগছেন ওই লিখনশিল্পীরা।

    বাদুড়িয়ার এক দেওয়াল লিখন শিল্পী মিঠুন মণ্ডল বলেন, এই কাজ পনেরো বছর বা তার বেশি সময় ধরে করছি। বিগত দিনে যেভাবে কাজ করেছি, এখন তার সিকি ভাগ কাজও নেই। পরিশ্রম বেশি, পারিশ্রমিক কম। ফলে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এই কাজে আসতেই চাইছেন না। এক একটি দেওয়াল লিখনে তাঁর পারিশ্রমিক সাড়ে চারশো টাকা। এই পয়সাতেই কিনতে হয় রং, তুলি, মার্কার ইত্যাদি। সব বাদ দিয়ে দেড়শো টাকার মতন হাতে থাকে।

    এই কাজের পাশাপাশি সংসার চালাতে মিঠুনের একটি চায়ের দোকানও রয়েছে। তিনি নিজে কোন দলের সমর্থক? এই প্রশ্ন করতেই মুচকি হেসে তিনি বলেন, শিল্পীর কোন জাত, ধর্ম, দল হয় না। তাঁর একটাই কাজ– শিল্পকলা।

    বাদুড়িয়ার তৃণমূল নেতা সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য বলেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেছেন খবরের কাগজ বা সাদা কাগজে রং, তুলির সাহায্যে পোস্টার বানাতে। আমরা বিভিন্ন সময় তা করেছিও। তাছাড়াও বাদুড়িয়ার এবারের তৃণমূল প্রার্থী বুরহানুল মোকদ্দিম লিটনের সমর্থনে আমাদের দলীয় কর্মীরা ফ্লেক্স-এর তুলনায় দেওয়াল লিখনের উপর জোর বেশি দিয়েছেন।

    রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের গবেষক সায়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষও গুহার দেওয়ালে ছবি আঁকত। তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ফ্রান্সের লস্কো গুহা। সোজা, সরল এবং কম খরচের শিল্পচর্চার জন্য দেওয়াল লিখন তাই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সুতরাং শিল্পকলাকে বাঁচাতে আমাদের দেওয়াল লিখন ফিরিয়ে আনতেই হবে। শিক্ষক নাজেশ আফরোজ মোল্লা বলেন, দেওয়াল লিখন একটি পরিবেশবান্ধব প্রচারের মাধ্যম। তাই দূষণ নিয়ন্ত্রণে এবং শিল্পকলা থেকে কর্মসংস্থান ও ঐতিহ্যের স্বার্থে সরকারের তরফ থেকে দেওয়াল লিখন বাধ্যতামূলক করা হোক।
  • Link to this news (বর্তমান)