নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আসন ভাগাভাগি নিয়ে বামফ্রন্টের মধ্যে যে ঐকমত্য হয়নি, তা আগেই স্পষ্ট হয়েছে। দফায় দফায় আলোচনার পরও ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে বড় শরিক সিপিএমের বনিবনা সম্পূর্ণ হয়নি বলেই খবর। এই অবস্থায় বারাসত বিধানসভার ভোটে সিপিএমের অবস্থান কী? ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থীকে সিপিএমের নেতারা আদৌ ভোট দেওয়ার কথা বলবেন তো? এই প্রশ্নেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, কয়েকদিন আগে বারাসত কেন্দ্রে বামফ্রন্ট সমর্থিত ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থীর নাম ঘোষণা হলেও এখনো পর্যন্ত সিপিএমকে তাঁর প্রচারে সেভাবে নামতে দেখা যায়নি। দেওয়াল লিখনেও তাদের ‘সক্রিয়’ অংশগ্রহণ নেই বলে খবর। সিপিএম কর্মীদের অনেকেই বলছেন, ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বারাসত বিধানসভা কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে ফরওয়ার্ড ব্লক। এবারও বামফ্রন্টের তরফে তারাই প্রার্থী দিয়েছে। সিংহ প্রতীকে এই আসনে প্রার্থী করা হয়েছে হেমন্ত দাসকে। নাম ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন হেমন্তবাবু। কিন্তু তাঁর প্রচারে সেই অর্থে সিপিএমের কোনো দাপুটে নেতাকে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি বলে আলোচনা চলছে। গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বামেদের শোচনীয় ফলাফল হয়েছিল। বাম মহল সূত্রে খবর, ভোটপ্রাপ্তিতে কোনো উন্নতি না হলেও ফরওয়ার্ড ব্লক এই কেন্দ্রে লড়াইয়ের দাবি থেকে কখনও সরে আসেনি। বারাসত বিধানসভার মধ্যে রয়েছে বারসত পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ড ও ছোটো জাগুলিয়া পঞ্চায়েত। জেলা সদর শহরে বিভিন্ন অংশের মানুষের বসবাস। তৃণমূল ও বিজেপি যেভাবে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তাতে বামেদের প্রচার কার্যত ম্লান হয়ে যাচ্ছে। শহরের এক সিপিএম নেতা বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল, বারাসত কেন্দ্রটি সিপিএমকে দেওয়া হোক। কিন্তু হয়নি। দিলে লড়াই হত। তাই আমরা এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি কী করব। আদৌ ভোট কাকে দেব, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছি। কারণ, ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে সিপিএমের মনোমালিন্য নতুন কিছু নয়।’ তবে সিপিএমের জেলা কমিটির এক নেতা বলেন, ‘ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থীর হয়ে প্রচার করা হচ্ছে না, এটা যাঁরা বলছেন, তাঁরা গুজব রটাচ্ছেন। প্রার্থীকে জেতাতে আমরা লড়াই করছি।’ প্রার্থী হেমন্তবাবু বলেন, ‘বামফ্রন্টের সমস্ত শরিক দলে এক হয়েই লড়াই করছে। কোথাও কোনো দ্বিমত নেই। আসলে এটা সংবাদমাধ্যমের তৈরি করা। দেওয়াল লিখন বা পোস্টারিং তৃণমূল ও বিজেপি আমাদের করতে দেয়নি।’