ভাঙড়ে পুকুরের জল ছেঁচে উদ্ধার রাইফেল এবং ৮০টি তাজা বোমা
বর্তমান | ২৫ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোটের আগে পুলিশ ও প্রশাসনের মাথা ব্যথা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ভাঙড়। মঙ্গলবার ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারে পুকুর থেকে একটি রাইফেল উদ্ধার হয়। জল ছেঁচে ফেলার পর ওই পুকুর থেকে প্রায় ৮০টা তাজা বোমাও পাওয়া যায়। এগুলি সবই ‘ওয়াটার প্রুফ’ প্লাস্টিক দিয়ে মুড়ে দেওয়া ছিল। এরপর পুলিশ সক্রিয়তা বাড়িয়েছে।
নির্বিঘ্নে ভোট পরিচালনা করতে সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। তার মধ্যে গোলা, গুলি উদ্ধার লেগেই আছে। পুলিশ অবজার্ভার মনোজ কুমারের পরিদর্শনের সময় এই বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গায় উদ্ধার হল প্রচুর বোমা। মিলেছে একটি বন্দুকও। এদিন ভাঙড়ের চণ্ডীহাট গ্রাম থেকে তিনটি তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছে। অভিযোগ, এক তৃণমূল কর্মীর দোকান থেকে সেগুলি পাওয়া গিয়েছে।
ক’দিন আগে বামুনিয়ায় পরিত্যক্ত বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছিল। সেই জায়গা পরিদর্শন করেন রাজ্যের পুলিশ অবজার্ভার। পাশাপাশি ভাঙড়ের কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স, মাধবপুর, উত্তর কাশীপুর থানা গিয়ে কথা বলেন ওসিদের সঙ্গে। প্রতিটি থানায় ভোটের আগে কত ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে, কত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে খোঁজ খবর নেন মনোজবাবু। এলাকা থেকে কত অস্ত্র, বোমা উদ্ধার হয়েছে, সেগুলির কী ব্যবস্থা করা হচ্ছে, জানতে চান পুলিশ অবজার্ভার। এদিকে, প্রশাসনের তরফে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে হিংসা মুক্ত ভোট করার আবেদন জানানো হয়েছে। যথাযথ নিয়ম মেনে যাতে সবাই ভোটের প্রচার থেকে শুরু করে বাকি কাজ করে সেই ব্যাপারেও সব পক্ষকে সতর্ক করেছেন আধিকারিকরা।বোমা, বন্দুক উদ্ধারের ঘটনায় ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা বলেন, বন্দুকের রাজনীতি আমরা করি না। আইএসএফ এলাকায় অশান্তি ছড়িয়ে তৃণমূলকে বদনাম করার জন্য এসব করছে। পালটা ভাঙড়ের আইএসএফ নেতা আরাবুল ইসলামের দাবি, বামুনিয়াতে শওকত মোল্লা লোক পাঠিয়েছিল বোমা তৈরির জন্য। সেখানে বোমা ফেটে একজন মারা গিয়েছে, কয়েকজন আহত হয়েছে। আজ আবার বন্দুক উদ্ধার হল। জন সমর্থন নেই তৃণমূলের, তাই এখন বোমা, বন্দুকের রাজনীতি করছে ওরা। উদ্ধার হওয়া বন্দুক। নিজস্ব চিত্র