• রানাঘাটের বদলে নয়া নাম হোক নদীয়া দক্ষিণ
    বর্তমান | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কল্যাণী: বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ইস্তাহারে রাজ্যে সাতটি নতুন জেলা গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে রানাঘাটকে পৃথক জেলা হিসেবে গড়ে তোলার উল্লেখ রয়েছে। এই নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। প্রশাসনিক কাজের সুবিধা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য নদীয়া জেলাকে দু’ভাগে ভাগ করার দাবি দীর্ঘদিনের। তবে মানুষের একটি বড়ো অংশের বক্তব্য, ‘রানাঘাট’ জেলার নামকরণের ক্ষেত্রে  পুনরায় বিবেচনা করা হোক। ‘নদীয়া’ নামের সঙ্গে  ‘দক্ষিণ’ কথাটিজুড়ে ‘নদিয়া দক্ষিণ’ করা হোক। এবং বাকি যে অংশের নাম ‘নদীয়া’ রাখা হয়েছে তার নাম ‘নদীয়া উত্তর’ করা হোক। নতুন জেলা ঘোষণা হওয়ার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দাবি উঠতে শুরু করেছে।

    ‘অনেকের বক্তব্য, নদীয়া নামটিই জেলাবাসীর কাছে আবেগের। নদীয়া নামের সঙ্গে শ্রীচৈতন্যদেবের নাম জড়িয়ে। সে নাম মুছে গেলে মানুষের আবেগে আঘাত আসবে। পাশাপাশি নদীয়া নামের সঙ্গে ওপার বাংলারও একটি নিবিড় সম্পর্ক আছে। সেটাও একটি আবেগ। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নানা স্থাপত্য, যা নিয়েও নদীয়ার মানুষের গর্ব রয়েছে। ফলে নতুন নামকরণের সময় নদীয়া নাম বাদ না দেওয়াই উচিত। 

    ২০২২ সালের আগস্ট মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম ঘোষণা করেছিলেন রানাঘাট জেলা তৈরির কথা। তা হওয়ার কথা রানাঘাট এবং কল্যাণী মহকুমা নিয়ে। অন্যদিকে কৃষ্ণনগর এবং তেহট্ট মহকুমা নিয়ে পুরনো নদীয়া জেলা গড়ার পরিকল্পনা হয়। নদীয়ায় আগেই ভেঙে দেওয়া হয়েছিল পুলিশ জেলাকে। সেখানে রানাঘাট এবং কৃষ্ণনগর দু’টি পৃথক পুলিস জেলা আছে। চাকদহ শহরের বাসিন্দা সৌম্য ভট্টাচার্য বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা এবং উন্নতমানের পরিষেবা দিতে এই নতুন জেলা। এটি নিঃসন্দেহে রাজ্য সরকারের ভালো উদ্যোগ। তবে জেলার মানুষের আবেগের দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে। আমরা চাই আমাদের জেলার নামের সঙ্গে নদীয়া কথাটা থাকুক।’ কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সুখেন বিশ্বাস বলেন, ‘নদীয়া নামের সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে। শ্রীচৈতন্যদেব, কবি কৃত্তিবাস, মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র সকলেই এই জেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রশাসনিক কারণে নদীয়া ভাগ হলে হোক নদীয়া উত্তর ও নদীয়া দক্ষিণ।’ 

    বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি সব্যসাচী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আগামী দিনে জনগণনা হলে এমনিতেই জেলা, বিধানসভা ও লোকসভার সংখ্যা বাড়বে। তৃণমূল   এইসব নিয়ে ভোটের রাজনীতি করছে। কিন্তু কোনো লাভ নেই।’ তৃণমূলের নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি চঞ্চল দেবনাথ বলেন, ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মানবিক। তিনি যা করবেন মানুষের ভাবাবেগকে গুরুত্ব দিয়েই করবেন।’
  • Link to this news (বর্তমান)