কাল অন্নপূর্ণা পুজো, প্রতিমা তৈরির বরাত বৃদ্ধি পাওয়ায় খুশি কুমোরটুলির শিল্পীরা
বর্তমান | ২৫ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গতবারের তুলনায় এবছর কুমোরটুলিতে অন্নপূর্ণা প্রতিমার বায়না বাড়ল। গতবছর প্রায় ২ হাজার ৭০০ বায়না হয়েছিল। এবছর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজারেরও উপর।
এবার দশ ফুটের অন্নপূর্ণারও বরাত পেয়েছে কুমোরটুলি। মঙ্গলবার কুমোরটুলি স্ট্রিটের শিল্পী রাজা পাল বলেন, ‘ন’টি প্রতিমার বরাত পেয়েছি। ছোট আকারের ছ’টি। গতবছর পেয়েছিলাম সাতটি।’ শিল্পী চায়না পালের ঘরে কারিগররা ব্যস্ত ছিলেন প্রতিমা তৈরির কাজে। শিল্পী জানান, কলকাতা ও জেলা থেকে অন্নপূর্ণা তৈরির বরাত পেয়েছেন। শিল্পী সমর পালের স্টুডিয়োতে মানিকতলার বাগমারি থেকে একটি পরিবার এসে কিছু গিল্টি করা গয়না শিল্পীকে দিয়ে বলেন, ‘এই গয়না দিয়ে দেবীকে সাজাতে হবে।’ ওই পরিবারের গৃহবধূ মধুমিতা সামন্ত বলেন, ‘বাড়ির অন্নপূর্ণা পুজো পড়ল ৩৮ বছরে। প্রতিবছরই কুমোরটুলির প্রতিমায় তাঁদের বাড়ির পুজো হয়। বাড়িতে কাঠামো পুজো করে সেটি কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীর ঘরে আনা হয়। তাতেই গড়ে ওঠে অন্নপূর্ণার মূর্তি।’ পাথুরিয়াঘাট স্ট্রিটের একটি বাড়ি থেকে কয়েকজন মঙ্গলবার আসেন। গৃহকর্তা সুনীল সেন বলেন, ‘বাড়ির অন্নপূর্ণা প্রতিবছরই হয় চারফুটের। আমরা মায়ের বস্ত্র কিনে শিল্পীকে দিয়ে দি।’
বৃহস্পতিবার অন্নপূর্ণা পুজো। মঙ্গলবার কুমোরটুলিতে একাধিক প্রতিমা কুলির মাধ্যমে গাড়িতে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। বনমালি সরকার স্ট্রিটে এক শিল্পীর ঘরে দাঁড়িয়ে অন্নপূর্ণা তৈরির কাজ দেখছিলেন সমীরণ পাল নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘কুমোরটুলির প্রতি একটা আলাদা টান আছে। সেই টানেই মাঝে মধ্যে ছুটে আসি।’
সোমা মুখোপাধ্যায় নামে এক গৃহবধূ বলেন, ‘এখানে এসেছি মা অন্নপূর্ণাকে দর্শন করব বলে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিলাম। এটাই বড়ো প্রাপ্তি।’ কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংগঠনের অন্যতম কর্তা বাবু পাল বলেন, ‘যতদিন যাচ্ছে অন্নপূর্ণার আরাধনা বাড়ছে। ফলে পটুয়াপাড়ায় প্রতিমার বায়নাও বাড়ছে। গতবছরের তুলনায় এবার একচালার ছোট শিব সহ অন্নপূর্ণার চাহিদা খুব ভালো দেখা যাচ্ছে।’