• ঘুচলো ‘বিচারাধীন’ তকমা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখা ‘শতায়ু’ শেখ ইব্রাহিম এ বার ‘ভোটার’
    এই সময় | ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ১০০ পেরিয়েছে তাঁর বয়স। ভারতের মাটিতেই তাঁর বাস। এতদিন ভোটও দিয়েছেন। তবুও SIR প্রক্রিয়ার পরে তাঁর নাম ঢুকে গিয়েছিল অ্যাজুডিকেশন (‘বিচারাধীন’) তালিকায়। শুধু তিনিই নন, তাঁর পুত্র ও পুত্রবধূরাও ওই তালিকায় পড়েছিলেন। অবশেষে ঘুচল সেই তকমা। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের ‘শতায়ু’ শেখ ইব্রাহিম ফিরে ফেলেন ভোটার তকমা। তাঁর দুই পুত্র ও পুত্রবধূরাও ফিরে পেয়েছেন ভোটাধিকার। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বৈধ ভোটার হিসাবে বিবেচিত হয়েছেন তাঁরা।

    জামালপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বত্রিশবিঘা গ্রামের বাসিন্দা শেখ ইব্রাহিম, বয়স ১০৪। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই গ্রামের ১৩৮ নম্বর বুথের ভোটার তিনি। এই এলাকার আদি বাসিন্দা ইব্রাহিমের দাবি, দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক আগে ১৩২৯ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে তাঁর জন্ম। তাঁর স্ত্রী আসেমা বেগম ১৮ বছর আগে মারা গিয়েছেন। ইব্রাহিমের ছয় ছেলে ও দুই মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে বলে জানান তিনি। ছেলেরা বত্রিশবিঘা গ্রামে পাশাপাশি বাড়িতে থাকেন।

    বাংলায় এসআইআর (SIR) পর্ব শুরু হওয়ার পরে ২৯ জানুয়ারি প্রবীণ শেখ ইব্রাহিমকে ব্লকের বিডিও অফিসে ‘শুনানিতে’ হাজির হওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়। ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র কথা তাতে উল্লেখ ছিল। ওই নোটিস বৃদ্ধর বাড়িতে পৌঁছে দেন ১৩৮ নম্বর বুথের বিএলও। তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হতেই কমিশনের প্রতিনিধিরা ১০৪ বছর বয়সী শেখ ইব্রাহিমের বাড়িতে গিয়ে শুনানি সারেন। কিন্তু প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় শেখ ইব্রাহিমের নাম ‘বিচারাধীন’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই সময়ে তিনি বলেছিলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও আমি ভোট দিয়েছি। তা সত্ত্বেও কেন আমায় ‘বিচারাধীন’ হিসাবে চিহ্নিত করা হলো, বুঝে উঠতে পারছি না।’

    বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত শরীর নিয়ে মঙ্গলবার শেখ ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন দেখেছি, ভারত স্বাধীন হতেও দেখেছি। হাওড়া ব্রিজ তৈরি থেকে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধও দেখেছি। গান্ধীজির ডাকা ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মিছিলে আমিও গিয়েছি।’ শেষ পর্যন্ত যে বৈধ ভোটারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাতেই তিনি খুশি বলে জানিয়েছেন। বৃদ্ধের ছেলে শেখ রাইহান উদ্দিন ও শেখ আরেফুল ইসলাম বলেন, শেষ পর্যন্ত আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।’

  • Link to this news (এই সময়)