আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের পর এবার বাংলা। ফের নীল ড্রাম থেকে উদ্ধার নগ্ন গলাকাটা মৃতদেহ। ভোটের মুখে যে ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির ভদ্রেশ্বর থানার শ্বেতপুরের কাছে দিল্লি রোডের পাশে। আজ সকালে স্থানীরা রাস্তার পাশের জমিতে বস্তায় বাঁধা নীল ড্রাম পড়ে থাকতে দেখেন। এর কাছেই রয়েছে শ্বেতপুর পুলিশ ফাঁড়ি। স্থানীয়রা দেখেই পুলিশে খবর দেন।
ফাঁড়ি থেকে পুলিশ গিয়ে বস্তার বাঁধন খুলে ড্রামের ভিতর থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে। গলাকাটা শরীর ঝলসানো অবস্থায় ছিল বলে জানা গেছে। চন্দননগর পুলিশ আধিকারিকরা ও ভদ্রেশ্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে।
দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের বয়স ৪০ বছরের আশেপাশে। অজ্ঞাত পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। পুলিশের অনুমান, অন্য কোথাও খুন করে নীল ড্রামে ভরে দেহ ফেলে দিয়ে যাওয়া হয়েছে ভদ্রেশ্বরে।
কয়েক মাস আগে উত্তরপ্রদেশে নীল ড্রাম থেকেই উদ্ধার হয়েছে একের পর এক মৃতদেহ। প্রসঙ্গত, গত বছর মার্চ মাসে নীল ড্রামে দেহ লুকিয়ে রাখার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। ২০১৬ সালে সৌরভ রাজপুত ও মুসকান রাস্তোগি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রেমের সম্পর্ক পরিণতি পাওয়ায় খুব খুশি ছিলেন দু'জনে। স্ত্রীর সঙ্গে আরও সময় কাটানোর জন্য মার্চেন্ট নেভির চাকরি ছেড়ে বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু পারিবারিক অশান্তির কারণে এরপর বাড়ি ছেড়ে মুসকানকে নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থাকতে শুরু করেন সৌরভ। ২০১৯ সালে ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন মুসকান। কিন্তু সেই সুখের মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দিন কয়েক পরেই সৌরভ জানতে পারেন, তাঁর বন্ধু সাহিলের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত মুসকান।
সেই সম্পর্ক ঘিরে অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। ডিভোর্সের পথে এগিয়েও, সন্তানের কথা ভেবে পিছিয়ে আসেন সৌরভ। ফের নেভির চাকরি নিয়ে ২০২৩ সালে ভিন দেশে চলে যান। মেয়ের ছ'বছরের জন্মদিন উপলক্ষে ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন সৌরভ। এর মাঝেই সাহিল ও মুসকান আরও গভীর প্রেমে ডুবে যান। সৌরভ দেশে ফেরার পরেই তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করেন।
৪ মার্চ খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সৌরভকে খাওয়ান। অচৈতন্য অবস্থায় সৌরভকে কুপিয়ে খুন করেন মুসকান ও সাহিল। এরপর মৃতদেহ ১৫ টুকরো করে, ড্রামের মধ্যে ভরে সিমেন্ট দিয়ে আটকে দেন। কিছুদিন পর প্রতিবেশীরা সৌরভের খোঁজখবর জিজ্ঞেস করতেই, দু'জনে বলেন, তিনি পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছেন।
খুনের বিষয়টি লুকিয়ে রাখতে এরপর সৌরভের ফোন নিয়ে মানালিতে বেড়াতে যান সাহিল ও মুসকান। সেখানে গিয়ে সৌরভের ফোন থেকে ছবি শেয়ার করেন। কিন্তু সৌরভের সঙ্গে দীর্ঘদিন ফোনে কথা না হওয়ায় থানায় অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। তখনই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। স্ত্রী ও বন্ধুকে আটক করে জেরা শুরু করে তারা। পুলিশি জেরায় খুনের ঘটনাটি স্বীকার করে নেন তাঁরা। খুনের ১৪ দিন পর সেই ড্রাম থেকে দেহের টুকরোগুলো উদ্ধার করা হয়।