• নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ এসএসসি
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৬ মার্চ ২০২৬
  • বিচারপতি কৃষ্ণা রায়ের এজলাসে কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। যদিও এর আগে মার্চ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

    কমিশনের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, তাদের মোট কর্মী সংখ্যা মাত্র ৩৫। তার মধ্যে নির্বাচন কমিশন ভোট পরিচালনার কাজে ২৪ জনকে নিয়ে নিয়েছে। ফলে হাতে গোনা কর্মী নিয়েই নিয়োগ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, বিশেষ করে ইন্টারভিউ চালানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যদি ওই কর্মীদের দ্রুত ফিরিয়ে না দেওয়া হয়, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করা যাবে না বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কমিশন।

    এসএসসির যুক্তি, তারা একটি স্বশাসিত সংস্থা। তাই নির্বাচন কমিশনের তরফে সরাসরি তাদের কর্মীদের ভোটের কাজে নিয়োগ করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। কমিশনের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, নিয়োগ দুর্নীতির জেরে ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী চাকরি হারান। পরবর্তীতে যোগ্য চাকরিহারা প্রার্থীদের জন্য নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে সেই প্রক্রিয়ারই ইন্টারভিউ পর্যায় চলছে।

    এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হলেও, নির্বাচনী দায়িত্বের চাপ সেই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।

    এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার হতে চলেছে। এখন দেখার, আদালত কী নির্দেশ দেয় এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে এই জট কাটানো সম্ভব হয়।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)