• ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ জীবনকে হঠাৎ তলব শাহী মন্ত্রকের, ভোটবঙ্গে কামতাপুর জিগিরে হাওয়া!
    প্রতিদিন | ২৬ মার্চ ২০২৬
  • বাংলায় বেজে গিয়েছে ভোটের বাদ্যি! শাসক-বিরোধী শিবিরে শুরু হয়ে গিয়েছে জোর ব্যস্ততা। এরমধ্যেই উত্তরের রাজনীতিতে নয়া মোড়! হঠাৎ করেই দিল্লিতে তলব করা হল কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (কেএলও) সুপ্রিমো জীবন সিংহকে। বঙ্গে ভোট আবহের মধ্যেই হঠাৎ কেন তাঁকে দিল্লিতে তলব তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবারই দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিলের বারোজনের প্রতিনিধি দল। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে নাগাল্যান্ডের মন জেলার মায়ানমার সীমান্ত লাগোয়া নয়াবস্তি এলাকায় ছ’জন অনুগামী-সহ জীবন সিংহ আত্মসমর্পণ করেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার শান্তি চুক্তি না-করার প্রতিবাদে এবার বিধানসভা নির্বাচনে কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল (কেএসডিসি) উত্তরের বিভিন্ন আসনে প্রার্থী দিয়ে প্রচারে নেমেছে। সংগঠনটি জীবন সিংহের নেতৃত্বে গঠিত। ফলে ভোট কাটাকাটির খেলায় বিজেপির ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। আর এরপরেই জীবন সিংহকে দিল্লির তলব যথেষ্ট তাৎপর্য মূলক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। 

    জানা গিয়েছে, দিল্লিতে যে বারোজনের প্রতিনিধি দল গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন, জীবন সিংহ কোচ, ডিএল কোচ, সূর্য কোচ, ওয়াংচু কোচ, অসমেরএডভোকেট জেনারেল দেব কুমার শইকীয়া, ধীরেন্দ্রনাথ দাস, তপতী রায় মল্লিক, অষ্টমী রায় সিংহ, ধনঞ্জয় বর্মন, মঞ্চলাল সিংহ, মাধব মন্ডল এবং সুব্রত রায়। অসমর্থিত সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অর্থাৎ শাহী মন্ত্রকের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জীবন সিংহের। যদিও ওই বিষয়ে কেএসডিসি-র কোনও বক্তব্য মেলেনি। তবে কামতাপুর পিপলস পার্টির (ইউনাইটেড) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিখিল রায় বলেন, “সমাজমাধ্যমে ১২ জন প্রতিনিধি দলের দিল্লি সফরের খবর দেখেছি। কিন্তু এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানি না।”

    অন্যদিকে রাজ্য তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক মৃদুল গোস্বামী অবশ্য বলেন, “এসবই বিজেপির গেম প্ল্যান। ওরা রাজবংশী-কামতাপুরি ভোট টানতে এখন বংশীবদন বর্মন, জীবন সিংহকে ভরসা করতে শুরু করেছে। কিন্তু এসবে লাভ হবে না। মানুষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পক্ষে আছে।” কিন্তু দিল্লিতে শান্তি বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা হলে কি দাবি রাখতে পারেন কেএলও সুপ্রিমো?

    একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং পৃথক কামতাপুর রাজ্য গঠনের দাবি পূরণ ও শান্তি চুক্তির আশ্বাস দিয়ে কেএলও চিফ জীবন সিংহকে আত্মসমর্পণ করানোর পর দিল্লিতে কয়েক দফায় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ব্যবস্থা না-নেওয়ায় কামতাপুরি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং পৃথক কামতাপুর রাজ্য গঠনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল। জীবন সিংহের নির্দেশে সম্প্রতি ভাষা ও রাজ্যের দাবিতে অনন্ত মহারাজ ও বংশী বদনকে এক মঞ্চে আনতে তৎপর হয় সংগঠনের নেতৃত্ব। কিন্তু লাভ হয়নি। বংশীবদন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু তাতে পদ্ম শিবিরে খুব একটা স্বস্তি ফেরেনি। উলটে কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল একাধিক আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারে ঝাপিয়ে পড়তে ভোট কাটাকুটির সম্ভাবনা বেড়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এরপরেই কেন্দ্রীয় সরকার নড়েচড়ে বসেছে।

    প্রসঙ্গত, কামতাপুরি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং পৃথক কামতাপুর রাজ্য রাজ্য গঠনে উদ্যোগী হওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (কেএলও) সুপ্রিমো জীবন সিংহকে ছ’জন অনুগামী-সহ নাগাল্যান্ডের মন জেলার মায়ানমার সীমান্ত লাগোয়া নয়াবস্তি এলাকায় আত্মসমর্পণ করানো হয়। এরপর তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে শান্তি বৈঠকের কথা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে সরকারিভাবে ওই বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার শান্তি চুক্তির কথা বলেছিল। কিন্তু সেটা হয়নি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)