যোগ না দিয়েও মুখপাত্র পদ! হুমায়ুনের দলে ‘সরব’ সুমন বিশ্বাস
প্রতিদিন | ২৬ মার্চ ২০২৬
পদ পেয়েও অস্বীকার! ফেসবুক থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের আবেদন শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতম নেতার! দাবি, হুমায়ুন কবীরের দলে যোগ না দিয়েও তাঁকে নিমকহারাম বলা হয়েছে! অভিযোগ, কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়েও মুখপাত্র পদ দেওয়া হয়েছে, কেন এই পদপ্রাপ্তি, সুমন বিশ্বাস প্রশ্ন তুলেছেন এনিয়েও। আর এই ইস্যুতেই এবার ভোটের আগে হুমায়ুন কবীরের দলের বিরুদ্ধে সরব যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা আন্দোলনের অন্যতম মুখ।
তাঁর দাবি, ‘আমি যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের জন্য আন্দোলন চালাচ্ছি। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে চাই না। তবুও তাঁকে মুখপাত্র বানিয়ে রেখেছে জনতা উন্নয়ন পার্টি অর্থাৎ হুমায়ুন কবীরের দল (অধুনা আম জনতা উন্নয়ন পার্টি)।’
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে? আন্দোলনকারী ওই চাকরিহারা শিক্ষকের দাবি, গত জানুয়ারি মাসের ১৬ এবং ১৯ তারিখ হুমায়ুন কবীরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জনতা উন্নয়ন পার্টির সংগঠনের পদাধিকারীদের নাম প্রকাশিত হয়। সেখানে দেখা যায়, সুমন বিশ্বাসের নাম রয়েছে। তাঁর নাম এবং মোবাইল নম্বর-সহ ওই ফেসবুক পোস্টে তাঁকে দেওয়া হয়েছে মুখপাত্র এবং দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ। কিন্তু সুমনের দাবি, তিনি কোনও ভাবেই হুমায়ুনের দলে যোগ দেননি। এমনকী যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশও করেননি! এরপর সুমন বিশ্বাস হোয়াটসঅ্যাপ মারফত চিঠি পাঠান আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরকে। কিন্তু তারপরও সদুত্তর মেলেনি বলেই তাঁর দাবি।
আন্দোলনরত শিক্ষক বলছেন, ‘আমি কবে, কোথায়, কখন। ওই দলে যোগ দিলাম বা পদ অনুযায়ী কাজ করলাম, সেটা কেউ বলতে পারবেন না। কিন্তু এখনও আমার নাম ফেসবুকে ঘোরাঘুরি করছে! আমি তো ওই দলের প্রার্থীও নই!’ সুমন বিশ্বাসের কথায়, ‘এই নামটা এখনও যে রেখে দিয়েছেন এর পেছনে কি কোনও ষড়যন্ত্র আছে? উদ্দেশ্য আছে?’
তাঁর অভিযোগ, ‘আমার নাম প্রত্যাহার করার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে ওঁকে (হুমায়ুন কবীর) চিঠিও লিখি। কিন্তু তিনি আমার নাম আজও প্রত্যাহার করেননি।’ আন্দোলনরত চাকরিহারা শিক্ষকের আবেদন, ‘আমার নামটা ওনার ফেসবুক থেকে তুলে নিন এই আবেদন জানাচ্ছি।’
যদিও আমজনতা উন্নয়ন পার্টির পদে এত জনের মধ্যে শুধুমাত্র সুমন বিশ্বাসের নাম কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে যদিও তাঁর দাবি, ‘বিধানসভার অধিবেশনে আমাদের কথা তোলার জন্য আমরা বহু রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলি। সাক্ষাৎ হয় হুমায়ুন কবীরের সঙ্গেও। তাঁর আমাকে ভালো লাগতেই পারে। কিন্তু আমি তো তাঁর দলে যোগ দিইনি। তাহলে কেন এখনও আমার নাম রয়েছে।’ এমনকী হুমায়ুন কবীরের দলের প্রেস সচিব তাঁকে নাকি নিমকহারাম বলেছেন বলেও সরব হয়েছেন সুমন।
প্রসঙ্গত, শীর্ষ আদালতের নির্দেশে চাকরিহারা হন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা। কে যোগ্য, কে অযোগ্য এই প্রশ্নে শুরু হয় আন্দোলন। চাকরিহারা শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডলদের পাশাপাশি সংগ্রামী যৌথমঞ্চের সঙ্গে জোট বেঁধে আন্দোলন চালান সুমন বিশ্বাসরা। সল্টলেকের এসএসসি ভবনের সামনে অবস্থান শুরু হয়। অনশনেও বসেন এই চাকরিহারা সুমন বিশ্বাস।