সাপ্লিমেন্টারি তালিকাতেও নাম নেই! বিজেপির উদ্বেগ বাড়িয়ে মতুয়াগড়ে হতাশার ছায়া
প্রতিদিন | ২৬ মার্চ ২০২৬
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বনগাঁ মহকুমায় প্রায় ৩৭ হাজার উদ্বাস্তু মতুয়াদের নাম বাদ গিয়েছিল! বিচারাধীন তালিকায় ছিল প্রায় ৫০ হাজার ভোটারের নাম। যা নিয়ে মতুয়াদের মধ্যে আতঙ্ক-উদ্বেগ ছিল। এর মধ্যেই সোমবার মধ্যরাতে নতুন অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। আর তাতে বাদ পড়েছে বনগাঁ মহকুমার বহু মতুয়া উদ্বাস্তুর নাম। এমনকী একাধিক বুথে বিচারাধীন থাকা বহু নাম বাদ পড়েছে বলে খবর। এর ফলে নতুন করে মতুয়া উদ্বাস্তুদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে৷ মতুয়া অধ্যুষিত বাগদায় প্রায় ১৩ হাজার নাম বিচারাধীন ছিল ৷ নতুন তালিকায় হেলেঞ্চা গ্রাম পঞ্চায়েতের মন্ডপঘাটা ১২৭ নম্বর পার্টে বিচারাধীন থাকা ৪৭ জন ভোটারের নামই চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ৷ ও পুরাতন হেলেঞ্চার ১৩৩ নম্বর বুথে ৪৩ জন বিচারাধীন ছিলেন। তার মধ্যে ৪২ জনেরই নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। যা নিয়ে নতুন করে মতুয়া উদ্বাস্তুদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। শুধু তাই নয়, নতুন করে ফের দেশ ছাড়া হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে মতুয়াদের মধ্যে।
সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁ মহকুমায় বিচারাধীন তালিকায় প্রায় পঞ্চাশ হাজার ব্যক্তির নাম ছিল৷ এখনও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ হয়নি৷ তবে যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে তাতে বনগাঁ মহকুমার বাগদায় ১৯৯৩ জনের নাম বাদ গিয়েছে ৷ বনগাঁ উত্তরে ২৬৪ জনের৷ বনগাঁ দক্ষিণে ৬৬ এবং গাইঘাটা বিধানসভায় ২২৪০ জনের নাম বাদ গিয়েছে৷ বিচারাধীন তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় ভেঙে পড়েছেন ৭২ বছরের বৃদ্ধ আশুতোষ বিশ্বাস। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে তিনি ভোট দিয়ে আসছেন। এমনকী ১৯৯৫ সালের প্রমাণপত্রও তাঁর কাছে রয়েছে। এমনকি তিনি সরকারি আবাসনের সুবিধাও পেয়েছেন। এরপরেও নাম বাদে চরম ক্ষুব্ধ আশুতোষ বিশ্বাস। এদিকে ১৩৩ নম্বর বুথের ক্ষুব্ধ মাতুয়ারা জানিয়েছেন। আমাদের এলাকার কারো বাবা-মার ২০০২ সালের ভোটার তালিকা নাম রয়েছে৷ লিংক দেওয়ার পরেও পরিবারের নাম বিচারাধীন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আর এই ঘটনায় সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছেন মতুয়াদের একাংশ। তাদের বক্তব্য, তারা শুনেছিল রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাম বাদ যাবে ৷ কিন্তু আদৌতে দেখা যাচ্ছে হিন্দু মতুয়া উদ্বাস্তুদের নাম বাদ চলে গিয়েছে৷ স্থানীয় এক যুবক অম্বিক বিশ্বাস বলেন, ”আমার বাবা-মা ঠাকুমা সবাই ২০০২ সাল থেকে ভোট দেয়৷ আমরা এখানে জন্মেছি, পড়াশোনা করেছি৷ ভাই চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছে৷ সমস্ত তথ্য জমা দেওয়ার পরেও দেখলাম, আমাদের পরিবারের চারজনের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হল৷”
এই বিষয়ে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ”আমরা আগেই বলেছি বিজেপি চক্রান্ত করেছে। আর এই চক্রান্তের ফল মতুয়া উদ্বাস্তুদের ভুগতে হচ্ছে৷” অন্যদিকে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, ”ভোটার তালিকায় নাম থাকা বাদ যাওয়াটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। কারণ ভারত সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে কোন মতুয়া উদ্বাস্তুদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে না৷ তাদের ভবিষ্যতে ভোটার তালিকায় নাম উঠবে।”