ভোট প্রচারে পূর্ব মেদিনীপুর চষে বেড়ালেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার জেলার একাধিক বিধানসভা এলাকায় দলীয় প্রার্থীদের হয়ে কর্মিসভা করলেন তিনি। রামনগর, পটাশপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার করেছেন তিনি। নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
রামনগরে বিজেপি প্রার্থী চন্দ্র শেখর মণ্ডলের সমর্থনের সভা করেছেন শুভেন্দু। অন্যদিকে পটাশপুরে বিজেপি প্রার্থী তপন মাইতির সমর্থনে জনসভা করেন তিনি। এ বার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীদের জয়ী করার জন্য কর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পটাশপুর বিধানসভা কেন্দ্রে এর আগের ভোটে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন উত্তম বারিক। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। তিনি এ বারও তৃণমূলের টিকিট পেয়েছেন। আর ওই কেন্দ্রে এ বার বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন তপন মাইতি।
প্রচারে কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পের কথা তুলে এনেছেন শুভেন্দু অধিকারী। মোদী সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা নানা রাজ্যের প্রান্তিক শ্রেণির নাগরিকেরা পেলেও, বাংলার নাগরিকেরা পান না বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের তরফে বাধা দেওয়ার কারণে প্রকল্পের সুবিধা থেকে সকলে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ শুভেন্দুর।
এ দিন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের প্রার্থী পবিত্র করের সমর্থনে যখন কর্মিসভা করছেন তখন নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়া শিব মন্দির প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক জনসভায় বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতৃত্ব-সহ কয়েকজন বিজেপিতে যোগদান করেন। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন তৃণমূলের যুব সহ -সভাপতি রাহুল জানা, আমদাবাদ, বয়াল এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন যুবকের পাশাপাশি চণ্ডীপুরের চিকিৎসক পীযূষ দাস যোগ দেন বিজেপিতে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘দেশের মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে উন্নয়ন করে চলেছে। তাঁর কর্মযজ্ঞ বাংলায় ছড়িয়ে দিতে বিজেপিতে যোগদান করছেন সর্বস্তরের মানুষ। তাঁদের আমরা সাদরে গ্রহণ করে কাজের সুযোগ করে দিচ্ছি।’ বিজেপিতে যোগদানের বিষয় নিয়ে তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজিতকুমার রায় জানান, যাঁদের যোগদান করানো হয়েছে তাঁরা তৃণমূলের কেউ না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন রাজ্যে এনআরসি হতে দেবেন না। নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘এটা ভাঙা রেকর্ড। এসআইএর নিয়ে ওঁর তৈরি ফাঁদে কেউ ফাঁদে পা দেননি। সিএএ-তে মিথ্যাভাবে এনআরসি বলায় বাংলায় ক্ষতি করেছেন। তিনি এগুলি করিয়েছেন। দুর্নীতি, বেকারত্ব, শিল্প নেই...এই সরকারকে বিদায় দিতে হবে।’