• রাম-বাম তর্কের মধ্যেও ভরসা উন্নয়নের প্রদীপেই
    এই সময় | ২৬ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, দুর্গাপুর: এখানে শহরের সঙ্গে রয়েছে গ্রাম। স্টিল প্লান্টের কর্মী থেকে চাষি, তাঁরাও রয়েছেন। এমনই সহাবস্থানে তৈরি দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা। গত পাঁচ বছরে প্রাপ্তির হিসাব নিয়ে বসলে তা যথেষ্ট সন্তোষজনক। দ্বিতীয় বার প্রদীপ মজুমদারকে প্রার্থী করতে ভাবতেই হয়নি শাসকদলকে। এবং সেই ধারাবাহিক উন্নয়নই প্রচারের সেরা হাতিয়ার তাঁর।

    শেষ নির্বাচনে প্রদীপ জিতেছিলেন ৩,৭৪৬ ভোটে। শতাংশের হিসাবে প্রতিপক্ষ বিজেপি পেয়েছিল দুই শতাংশ কম ভোট। সেই অঙ্ক উৎসাহিত করছে বিজেপির প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গত নির্বাচনে সিপিএম ‘বহিরাগত’ আভাস রায়চৌধুরীকে প্রার্থী করায় ‘বাম ভোট রাম’–এ গিয়েছিল। এ বার বাম শিবির স্থানীয় শ্রীমন্ত চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে। কাজেই বাম–ঝুলিতে সেই ভোট ফিরলে চিন্তা বাড়বে বিজেপিরই!

    তবে চুলচেরা বিশ্লেষণ বাদ দিয়ে উন্নয়নের প্রশ্ন তুললে অতি বড় সমালোচকও মানবেন, শেষ পাঁচ বছরে প্রদীপ প্রচুর কাজ করেছেন। পানীয় জলের জন্য ভূগর্ভস্থ পাম্প, কৃষির জন্য সৌর বিদ্যুৎ চালিত পাম্প, ড্রোনের মাধ্যমে উন্নত চাষ, শব দাহের জন্য বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি হয়েছে তাঁর উদ্যোগেই। সবচেয়ে বড় পাওনা গড় জঙ্গলে পাকা রাস্তা। দুর্গাপুর–সহ দক্ষিণবঙ্গ এবং কলকাতা থেকে প্রচুর পর্যটক গড় জঙ্গল দিয়ে যান শ্যামরূপা মন্দিরে। এই রাস্তা পাকা করার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। তা করে দিয়েছেন তিনি।

    প্রদীপ বলছেন, ‘মন্ত্রী হওয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে হয়েছে কিন্তু নিজের কেন্দ্রকে অবহেলা করিনি। যতটা সম্ভব কাজ করার চেষ্টা করেছি। গত পাঁচ বছরে কী কাজ করেছি, তা ওঁরাই বলবেন। আলাদা করে প্রচারের কিছু নেই। সারা বছর এখানকার মানুষের সঙ্গেই থেকেছি। থাকবও।’

    তবে চাপা ক্ষোভও রয়েছে। এই কেন্দ্রের একটা অংশ দুর্গাপুর স্টিল প্লান্ট টাউনশিপের অধীন। পানীয় জল, টাউনশিপের আবাসন লিজ় সংক্রান্ত সমস্যা আছে। বাসিন্দাদের অনুযোগ, তা নিয়ে সে ভাবে সরব হননি বিধায়ক। সিপিএম প্রার্থী শ্রীমন্ত দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের কর্মী। টাউনশিপের বাসিন্দাদের অসুবিধা তাঁর অজানা নয়। বলছেন, ‘আবাসন লিজ় নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলন করছি। স্টিল প্লান্ট হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার দাবি জানিয়েছি। ঠিকা কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও নিয়োগে স্থানীয়দের অগ্রাধিকারের কথা আমরাই বলি।’

    বিজেপির চন্দ্রশেখরের বক্তব্য, ‘আমি এখানকার গ্রামের ছেলে। মানুষের সমস্যার কথা শুনছি। বিজেপি জিতলে স্থানীয় ছেলেরা কারখানায় কাজ পাবে। কৃষিতে আরও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার হবে।’

    স্টিল স্টিল প্লান্টে কাজের সুযোগ নাকি উন্নত কৃষি? শ্রমিক–কৃষকের সমন্বয় ঠিক করবে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের আকাশে উড়বে কোন রঙের আবির!

  • Link to this news (এই সময়)