গোপাল সোনকার
কারোর নাম বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। কারোর নাম আবার ‘বিচারাধীন’ তালিকায়। নির্বাচন কমিশনের তালিকায় এখন তাঁরা কেউই ‘বৈধ’ নন। অথচ তাঁদেরকেই কাজ করতে হবে ভোটকর্মী হিসেবে। ভোট নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে তাঁদের। এই প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য চিঠিও পেয়েছেন তাঁরা। এখন তাঁরা কি প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন? পূর্ব বর্ধমান (Purba Bardhaman) জেলার এই ঘটনায় নানা প্রশ্নও উঠেছে।
সোমবার রাতেই প্রকাশিত হয়েছে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা (Voter list) । সেই তালিকায় ভোটার হিসেবে বৈধ না হলেও প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য চিঠি পেয়ে অবাক তাঁরা। শুক্রবার ও শনিবার তাঁদের প্রশিক্ষণও রয়েছে। তা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। জেলা প্রশাসনের কর্তারা অবশ্য বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি।
সোমবার রাতে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি থাকা ভোটারদের একটা অংশের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) । তবে এখনও পর্যন্ত বর্ধমান (Burdwan) ২ ব্লকের চাকুন্দি শ্রীরামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দিরের শিক্ষক শেখ ফিরোজ হোসেন ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ হিসাবে আছেন। নাম ‘বিচারাধীন’ থাকলেও প্রিসাইডিং অফিসারের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য কমিশনের চিঠি পেয়েছেন তিনি। শনিবার বর্ধমানের টাউন স্কুলে হবে সেই প্রশিক্ষণ। ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘ ১৯৯০ সাল থেকে আমি ভোট দিচ্ছি। সব নথি জমা করেছি। কিন্তু নাম এখনও বিচারাধীন। অথচ কমিশন আমাকে ভোটার বলে স্বীকৃতি দিল না, তারাই আবার ভোটকর্মী বলে নিয়োগ করছে।’
একই কথা তালিত গৌড়েশ্বর হাই স্কুলের শেখ রবিউল হোসেনের। প্রথম পোলিং অফিসার (Polling Officer) হিসাবে চিঠি এসেছে তাঁর কাছে । তাঁর নামও ‘ বিবেচনাধীন’। তিনি বলেন, ‘২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। তার পরেও আমার ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে কমিশন। তা হলে কোন লজ্জায় ভোটকর্মী হওয়ার জন্য আমাকে ডাকছে?’
এর থেকেও মজার বিষয় বর্ধমানের পীরবাহারম এলাকার বাসিন্দা আইয়ুব আলির। তিনি হুরিয়া পাবলিক স্কুলের এক জন সহকারী শিক্ষক। তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে ‘ডিলিটেড’ হয়ে গেলেও প্রিসাইডিং অফিসারের (Presiding Officer) দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁর কাছেও চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ২০১ নম্বর বুথের ১২৮ সিরিয়ালে নাম ছিল তাঁর।শুনানি ও পরবর্তীতে ‘বিচারাধীন’ হিসেবে ভোটার তালিকায় থাকার পর সোমবার প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম বাদ হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যেই তিনি আবার ভোটকর্মী হিসাবে দায়িত্বপালনের চিঠি পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকারী নই সেখানে আমি কি করে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করব?’
শুধু তাই নয়,নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁদের পোস্টাল ব্যালটের ফর্ম দেওয়াও হয়েছে। এখন কী করবেন তাঁর উত্তর জানতে চাইছেন তাঁরা।