নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সরকার পক্ষেরই সাংসদ। সরকারেই সমালোচনা। বুধবার প্রশ্নোত্তর পর্বে এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল লোকসভা। ইন্টারনেট সমস্যার জেরে রেশন দোকানে ই-পস (ইলেকট্রনিক পয়েন্ট অব সেল) মেশিন ঠিক মতো কাজ করে না। ফলে অভিযোগ জানানোর অন্ন মিত্র এবং অন্ন সহায়তা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও সমস্যা হয়। এদিন এই ব্যাপারেই প্রশ্ন তুললেন মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়ার বিজেপি সাংসদ জ্ঞানেশ্বর পাতিল এবং দাদরা-নগর-হাভেলির মহিলা সাংসদ দেলকর কলাবেন মোহনভাই। যদিও গণবণ্টন মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিমুবেন বামভনিয়া স্পষ্ট জবাব দিলেন না। শোনা গেল রেশন প্রকল্প আর নরেন্দ্র মোদির গুনগান।
জ্ঞানেশ্বর জানতে চান, মোদি সরকার বিনামূল্যে দেশের প্রায় ৮০ কোটি নাগরিককে চাল-গম দেওয়ার প্রকল্প চালাচ্ছে ভালো কথা। কিন্তু আদিবাসী এলাকায় ইন্টারনেট সমস্যার জেরে উল্লেখিত দুই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কাজ করে না। এর কোনো অফলাইন ব্যবস্থা আছে কি? একইভাবে কলাবেনের প্রশ্ন ছিল, আগে অফলাইন ব্যবস্থায় আদিবাসী এলাকায় বাসিন্দারা সহজেই রেশন পেত। কিন্তু এখন অনলাইন ব্যবস্থায় সমস্যা হচ্ছে। হেল্পলাইন প্ল্যাটফর্মে দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রদেশ এবং দাদরা-নগর-হাভেলিতে কোনো ক্ষেত্রে শূন্য, কোনো ক্ষেত্রে মাত্র চারটি অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে কি ইন্টারনেট সমস্যার জন্যই এই অবস্থা? যদিও রাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট দিলেন না। বললেন, ‘কোথাও কোনো সমস্যা হলে আমরা রাজ্য সরকারকে জানিয়ে দিই। তারাই বিষয়টি দেখে।’ তবে সরকারপক্ষেরই সাংসদ। তাঁদের মুখেই সমালোচনা। তাই অস্বস্তি সামাল দিতে হাল ধরেন পূর্ণমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি। বললেন, আধার সংযুক্তিকরণ ব্যবস্থায় আঙুলের ছাপ নিয়েই রেশন দেওয়া হয়। সাধারণ ফোনেও এসএমএস যায়। রেশন সঠিক মাত্রায় পাচ্ছে কিনা জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে কোথাও যদি অনলাইন সমস্যার জন্য ই-পস মেশিন সঠিকভাবে কাজ না করে, তাহলেও রেশন দোকান থেকে কাউকেই খালি হাতে ফেরানো হয় না। অফলাইন হলেও রেশন দেওয়া হয়।