ব্রতীন দাস, ময়নাগুড়ি: ‘আমাকে ৩৬৫ দিনই পাবেন। বাকিরা সব ভোটপাখি। ভোট ফুরলেই পালিয়ে যাবে।’ বুধবার ময়নাগুড়িতে দলের প্রার্থী রামমোহন রায়ের সমর্থনে নির্বাচনি জনসভায় এমনটাই বললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আপদে-বিপদে ময়নাগুড়ির মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ময়নাগুড়িতে সাইক্লোন হলেও আমি ছুটে এসেছি। বন্যা হলেও এসেছি। আর কেউ আসে না। আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।
ভিড়ে ঠাসা জনসভায় মহিলাদের নজরকাড়া উপস্থিতি দেখে উচ্ছ্বসিত মমতা বলেন, ময়নাগুড়ি আমার অত্যন্ত প্রিয় জায়গা। জল্পেশ শিবমন্দিরের জন্য আমরা ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্কাইওয়াক তৈরি করে দিয়েছি। স্থানীয় মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা উত্তরপূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় শৈবতীর্থ জল্পেশ মন্দিরের উদ্দেশে প্রণাম করে এদিন নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ শুরু করেন তৃণমূল নেত্রী। স্কাইওয়াক, মুক্ত মঞ্চ, মার্কেট কমপ্লেক্স সহ জল্পেশ মন্দিরের ঢালাও উন্নয়নের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে এদিন সভাস্থলে হাজির হয়েছিলেন মহিলারা। উত্তরের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিল্পীরা নৃত্য ও গানের মধ্যে দিয়ে স্বাগত জানান তৃণমূলনেত্রীকে।
ময়নাগুড়ির ইন্দিরা মোড় সংলগ্ন টাউন ক্লাবের মাঠে এদিনের নির্বাচনি জনসভায় রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন মমতা। বলেন, ময়নাগুড়িতে আমরা আইটিআই, পলিটেকনিক কলেজ করেছি। একশো শয্যার ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। চালু হয়েছে এসএনসিইউ, ফেয়ার প্রাইস শপ। ময়নাগুড়ি ব্লকে ১৬৩ কোটি টাকা খরচে পানীয়জলের ৪১টি বড় ও মাঝারি প্রকল্প করা হয়েছে। এতে উপকৃত হয়েছেন দু’লক্ষেরও বেশি মানুষ। ময়নাগুড়ি রেল স্টেশন থেকে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪ কিমি রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। সেতু নির্মাণ হয়েছে জর্দা নদীর উপর। দোমোহনি বাজার থেকে তিস্তা ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার করেছি আমরা। ভোটপট্টি থেকে হেলাপোখরি পর্যন্ত ৫ কিমি এবং ময়নাগুড়ি-বার্নিশ রোডে ২ কিমি সংস্কার করা হয়েছে। ময়নাগুড়িতে গড়া হয়েছে কিষানমান্ডি। সেখানে এক হাজার মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন গোডাউন রয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার উন্নয়নে সবমিলিয়ে ২৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য।
ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি সহ জলপাইগুড়ি জেলায় প্রচুর কৃষক আলু চাষ করেন। অকাল বৃষ্টিতে সেই আলুর ক্ষতি হয়েছে। এনিয়ে মমতা বলেন, আমরা কৃষকদের জন্য আগে থেকেই ভেবে রেখেছি। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ফসল নষ্ট হলে যাতে তাঁরা ক্ষতিপূরণ পান, সেজন্য শস্যবিমা করে দেওয়া হয়েছে। ওই বিমার প্রিমিয়াম কৃষকদের দিতে হয়নি। রাজ্য সরকারই তা দিয়ে দিয়েছে। চা বাগান খোলা রাখতে চাইলে, চা বাগানে পাট্টা, চা সুন্দরীর ঘর পেতে চাইলে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তৃণমূল সুপ্রিমো। • শিল্পীদের সঙ্গে নাচে পা মেলালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। - নিজস্ব চিত্র।