মধ্যরাতে মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিল কমিশন, আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর, ‘রামচন্দ্র কারও একার নন, আমরাও পালন করব রামনবমী’
বর্তমান | ২৬ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নকশালবাড়ি: মহারণ-২৬ পর্বে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের জন্মতিথি এবারের ‘রামনবমী’ আক্ষরিক অর্থেই গেরুয়া শিবিরের ভোট প্রচারের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে! মঞ্চ, সংঘ আর পরিষদের মতো শব্দের আগে ‘সনাতনী’ লাগিয়ে বিস্তর লোকজন এবার আসরে! শহর শিলিগুড়ি তো বটেই, মাল, নাগরাকাটা, ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, ডাবগ্রাম এমনকি নকশাল আন্দোলনের আঁতুড়ঘর নকশালবাড়ির যেখানেই যান না কেন, একটা বিষয় ‘কমন’। রাস্তার দুপাশে লম্বা বংশদণ্ডে ভগবান রামের মুখাবয়ব আঁকা গেরুয়া ধ্বজ। অনেক বাড়ির মাথাতেও টাঙানো! নকশালবাড়ি যাওয়ার পথে বাগডোগরার শিবমন্দির এলাকায় দুধারে যেকোনো চায়ের দোকানে কান পাতলেই জবাব মিলছে—সনাতনী নাম জুড়ে দেওয়া হলেও, এ আয়োজনের নেপথ্যে রয়েছে, পদ্মপার্টি-বিজেপি। আজ বৃহস্পতিবার আর কাল শুক্রবার রামভক্তির নমুনা প্রদর্শিত হবে। বুধবার নকশালবাড়ির রায়পাড়ার যে স্কুল মাঠে দলীয় প্রার্থী শংকর মালাকারের সমর্থনে সভা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো, রাস্তা পার করলেই তার উলটোদিকে আদিবাসী ইয়ুথ ক্লাবের মাঠে সেরকমই এক আয়োজন। রামনবমী উপলক্ষ্যে ধর্মীয় সভার তোড়জোড় চলছিল। গেরুয়া পতাকায় মোড়া মাঠটা। মঞ্চে তখন মমতা হিন্দু বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস-ভরসাস্থল তারাপীঠ, ফুল্লরাদেবীর মন্দির, কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, জল্পেশ শিবমন্দিরের স্কাই ওয়াক নির্মাণসহ নানা কাজে তাঁর সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করছিলেন। এই এলাকায় প্রস্তাবিত মহাকাল মন্দির কী আকার নেবে, দেন তার বিবরণও। বাসন্তী ও অন্নপূর্ণা পুজোর শুভেচ্ছার সঙ্গে জানান রামনবমীর আগাম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন । এই পর্বে মমতা বলেন, বাংলা বহুত্ববাদে বিশ্বাস করে। এটা সব ধর্মের জায়গা! এরপরই সুর চড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলে ওঠেন—রাম তোমাদের কেনা নয়! রামচন্দ্র সবার! কারও একার নয়! গেরুয়া শিবিরের নাম না করে তাঁর কটাক্ষ—রামরাজ্য মানে ভালো রাজ্য। সবার ভালো। তোমাদের রামরাজ্য মানে তো মানুষকে খুন করা, পদদলিত করা। তাঁর ঘোষণা—আমরাও রামনবমী উদযাপন করব। করতালিতে স্বাগত মমতার ঘোষণা।
এবার মধ্যরাতে এসআইআরের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। কারা রইলেন, কারা বাদ পড়লেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা-জটিলতা অব্যাহত। সেই তালিকা নিয়ে মমতার কটাক্ষ—১৯৪৭-এ মধ্যরাতে দেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল। পরাধীনতার শিকল ছিঁড়েছিল ভারত। আর এবার এক মধ্য রাতে মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিল কমিশন! মঙ্গলবার রাতে তো আরেক ঘটনা ঘটেছিল। দেখি, সবার নাম বাদ। আমিও ঢুকে গিয়েছি বিচারাধীন তালিকায়! বলছে, হ্যাকিং হচ্ছিল। হ্যাকিং হচ্ছিল নাকি প্রযুক্তি দিয়ে বদমায়েশি! তাঁর বার্তা—লড়ে যাব, শেষ দেখে ছাড়ব! তৃণমূল সুপ্রিমোর কথায়—শুনছি, ২৭ লক্ষের তালিকায় আট লক্ষ নাম বাদ! কিন্তু তালিকাটা কোথায়? মানুষকে তো জানতে হবে! কার কার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হল! বুথে বুথে টাঙান তালিকা। যে বা যাঁদের নাম বাদ যাবে ভোটার তালিকা থেকে, তাঁদের জন্য মমতার নিদান, নাম তোলার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। বিএলএ ১ ও ২-রা আবেদন করতে সাহায্য করবেন। এলাকায় এলাকায় সাহায্যের জন্য ক্যাম্প হবে। আপনাদের সবাইকে বিনা পয়সায় আইনি সাহায্যও দেওয়া হবে।