প্রত্যাঘাতের হুংকার মমতার, ‘অফিসার বদলে বিজেপি-কমিশন আমাকে জব্দ করতে পারবে না’
বর্তমান | ২৬ মার্চ ২০২৬
দেবাঞ্জন দাস়, জলপাইগুড়ি: এসআইআরের গুঁতোয় লক্ষ লক্ষ নাম বাদ। ঝাঁকে ঝাঁকে আমলা বদলি। নজিরবিহীন প্রমোশন-ডিমোশন। সঙ্গে আবার শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়ার নির্দেশ—এসবই যে ‘বাংলা দখলের ছক’, তা উপলব্ধিতে নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনীতিতে পোড় খাওয়া নেত্রীর অভিজ্ঞতা মনে করাচ্ছে, এহেন ‘অতিসক্রিয়তা’ বস্তুত তাঁকে জব্দ করারই ছক! মহারণ-২৬’এ তাঁর নির্বাচনি প্রচারের প্রথমদিন, বুধবার তাই প্রত্যাঘাতের হুংকারই ধ্বনিত হল ক্ষুব্ধ মমতার কণ্ঠে! ময়নাগুড়ি, ডাবগ্রাম এবং মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির জনসভা মঞ্চ থেকে প্রত্যয়ী তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘোষণা—‘নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে অন্ধকারে রেখে সব অফিসারকে বদলি করে দিল, ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে দিল। এসব করে ভেবেছে আমাকে জব্দ করবে! আঘাত করবে! বিজেপি-কমিশন জানে না, জখম বাঘ কতটা ভয়ংকর হতে পারে! প্রত্যাঘাত করলে সামলাতে পারবে তো? পারবে না! আমি ভাঙব, তবু মচকাব না!’ নির্বাচনি প্রচারপর্বে এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তৃণমূল প্রার্থীকে গাছে বেঁধে পেটানোর নিদান দিয়েছেন। ময়নাগুড়ির মঞ্চ থেকে সেই প্রসঙ্গে দলের সুপ্রিমোর হুঁশিয়ারি—‘ধমক-হুমকি দেবেন না! এমন কিছু করবেন না, যাতে নির্বাচনের পর বাড়ির বাইরে পোস্টার টাঙাতে হয়। লিখতে হয়, আমি বিজেপি করি না, করি না।’ ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে জনতা চেনে মমতাকে। নবীন হোক আর প্রবীণ, উপচে ভরা ভিড়ের তিন সভাস্থলই সিংহগর্জনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে সায় দিয়েছে তাঁকে। গণদেবতার উদ্দীপনা ছুঁয়েছে মমতাকেও। ‘দিদি’র পালটা স্লোগান—যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা! গলা মিলিয়েছে কালো মাথার ভিড়। আলাদা করে ছাপিয়ে যাচ্ছিল মহিলা কণ্ঠের সমুদ্রগর্জন!
কেন আধিকারিক বদলি? কেন বাইরে থেকে ‘পছন্দের’ অফিসার আনা? জবাব দিয়েছেন মমতা। বলেছেন, ‘খবর আসছে, বাইরে থেকে দলে দলে লোক আনছে। সব হোটেল, গেস্ট হাউস বুক করেছে, বাড়ি ভাড়া নিয়েছে। বাইরে থেকে টাকা, আর্মস, আর ড্রাগস আনছে। পছন্দের অফিসার থাকলে কাজটায় সুবিধা হবে। সব জানি, কোথায় কার কাছে কী যাচ্ছে! সময়ে সব ফাঁস করব।’ এবার গলার সুর আরও চড়িয়ে মমতার বার্তা—‘হাত থেকে সব কেড়ে নিয়ে, অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে ভাবছে, বাংলা দখল করবে? অত সোজা! অঙ্গীকার করছি, বাংলার পর এবার আমরা দিল্লি দখল করব, করবই।’
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধি ঘোষণা ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী! জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার তিনটি জনসভাতেই কালো মাথার ভিড়ে সংখ্যাধিক্য ছিল রাজবংশী, আদিবাসী, হিন্দু ও সংখ্যালঘু মহিলাদের। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধি আর যুবসাথী রূপায়ণের জন্য মমতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্ল্যাকার্ড লিখে এনেছিলেন অনেকে। এই অংশকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত হতে দেখে উদ্দীপ্ত হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমোও। বলেছেন, ‘ওরা (বিজেপি-কমিশন) সব কাড়তে পারলেও, আমার মা-বোনদের কাড়বে কীভাবে? সেই মা-বোনদের একটা দায়িত্ব দিতে চাই! কি পারবেন তো?’ শত-সহস্র কণ্ঠের ‘পারবই’ জবাবে তখন কান পাতা দায়! মমতা বলে চললেন, ‘ওরা (বিজেপি-কমিশন) আপনাদের মতো বাংলার লাখো লাখো মা-বোনের নাম বাদ দিয়েছে। বিয়ে হয়ে ঠিকানা বদল? বাদ। পদবি বদল? বাদ। এটা অসম্মানের। এর বদলা নিতে হবে। ইভিএমে বোতাম টিপে। ওরা ছাপ্পাভোটের চেষ্টা চালাবে, ভয় দেখাবে। ভোটের দিন আপনাদের পাহারা দিতে হবে, এটাই আমার আবেদন। যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে! রান্নাঘরে অনেক কিছু থাকে, তাই নিয়েই পাহারা! আমাকে নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না!’ ফের জবাব সমবেত বামা কণ্ঠের, ‘লড়াই হবে, খেলা হবে!’