সুব্রত ধর, নকশালবাড়ি: একটা দিন মা-বোনেরা বুথ পাহারা দিন। যাতে দিল্লি থেকে বিজেপির নেতারা এসে ছাপ্পা দিতে না পারেন। বুধবার উত্তরবঙ্গে প্রথম রাউন্ডের ভোট প্রচারে নেমে এমন আহ্বান জানান তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী উত্তরবঙ্গ থেকে বিজেপিকে হটানোর ডাক দিয়েছেন। তাঁর এমন আহ্বানে গর্জে উঠেছে নকশালবাড়ি থেকে ফাঁসিদেওয়া, শিলিগুড়ি থেকে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, ময়নাগুড়ি। এদিন প্রতিটি নির্বাচনি সভাতেই তৃণমূল নেত্রীকে কাঁসর, ঘণ্টা বাজিয়ে, স্লোগান দিয়ে সমর্থন জানায় আমজনতা। উপচে পড়ে আমজনতার ভিড়।
উত্তরবঙ্গ দিয়ে ভোট প্রচার শুরু করলেন মমতা। এদিন তিনি দিনভর হেলিকপ্টারে চেপে ময়নাগুড়ি, জাবরাভিটা, নকশালবাড়ি চষে বেড়ান। প্রথম নির্বাচনি সভা করেন ময়নাগুড়িতে। দ্বিতীয়টি ঠাকুরনগরে জাবরাভিটা হাইস্কুলের মাঠে, তৃতীয় তথা দিনের শেষ জনসভা করেন নকশালবাড়ির নন্দপ্রসাদ গার্লস হাইস্কুলের মাঠে। নকশালবাড়ি রাজনৈতিক বিপ্লবের অন্যতম ভূমি। একদা জোতদারদের বিরুদ্ধে এই মাটিই গর্জে উঠেছিল।
এদিন ঐতিহাসিক এই মাটিতে দাঁড়িয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়েন তৃণমূল নেত্রী। সরাসরি মহিলাদের ভোটের দিন বুথ পাহারা দেওয়ার আহ্বান করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ছাত্র-যুবরা ইভিএম পাহারা দেবে। আর মা-বোনরা পাহারা দেবেন বুথ। শুধু মাত্র ভোটের দিন আপনাদের এই দায়িত্বটা নিতে হবে। যাতে দিল্লি থেকে বিজেপির নেতারা এসে ছাপ্পা দিতে না পারেন। এক্ষেত্রে ভয় দেখালে রুখে দাঁড়াবেন। ঘরে যা আছে, তা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসবেন মা-বোনরা। গণনার দিনও এভাবেই পাহারা দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সতর্ক করে মমতা বলেন,বাহিনীকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু যা কোনোদিন হয়নি, তা এবার এখানে হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির ফ্ল্যাগ নিয়ে যাচ্ছে। এনিয়ে অভিযোগ হয়েছে। শুধু নকশালবাড়ি নয়, ভোট নিয়ে ছাত্র-যুব সহ আমজনতাকে সতর্ক থাকার আহ্বান জাবরাভিটা ও ময়নাগুড়িতেও দিয়েছেন নেত্রী।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভোট নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া বাংলায় এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক হইচই চলছেই। তালিকা থেকে বহু ভোটারের নাম কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে এবারই ভোটের ময়দানে রাজ্য সরকারের সর্বস্তরের প্রশাসনে রদবদল হয়েছে। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে তৃণমূল শিলিগুড়িতে কর্মিসভায় বুথস্তরে ‘মানব প্রাচীর’ তৈরির ছক কষেছে। এমন প্রেক্ষাপটে তৃণমূল নেত্রীর আহ্বান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এনিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেকদের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের ভোটের ময়দানে বিহার, অসম, দিল্লি সহ বিভিন্ন রাজ্যের অবাঙালিদের নামিয়েছে পদ্ম শিবির। যারা বিভিন্ন এলাকায় ঘুবে বেড়াচ্ছেন। কেউ ভোটারদের মগজধোলাই করছেন বলে অভিযোগ। আবার কেউ কেউ ঝান্ডা, ফ্লেক্স লাগাচ্ছেন। বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। কোচবিহার থেকে মালদহ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে বিধানসভা কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৪টি। এর অধিকাংশ বিজেপির দখলে। এখানে পদ্মের এমপি সংখ্যাও বেশি। এটা বিজেপির ঘাঁটি হিসাবেই পরিচিত।
তাই উন্নয়নের খতিয়ান, সামাজিক প্রকল্পের পরিসংখ্যান থেকে এসআইআর ও রান্নার গ্যাস নিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে ‘অগ্নিকন্যা’ বার বার পদ্মের বাগান খান খান করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মমতার বক্তব্য, মা-বোনরা প্রস্তুত হন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, যুবসাথী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, খাদ্যসাথী, শস্যবিমা সহ ১০০’র বেশি প্রকল্পকে রক্ষা করতে হবে। তাই একটি করে ভোট দিন। তা হলেই উত্তরবঙ্গ তো বটেই দেশ থেকে পালাবে বিজেপি।