• ঝাড়গ্রামে বিজেপি প্রার্থীদের নিয়ে দলে ক্ষোভ, জামবনীর কার্যালয়ে বিক্ষোভ
    বর্তমান | ২৬ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে বিজেপির অন্দরে প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ চরম আকার নিয়েছে। দলীয় কার্যালয়গুলিতে ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে। ঝাড়গ্রাম, বিনপুর বিধানসভার নীচুতলার কর্মীরা প্রার্থী বদলের দাবি তুলেছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে জেলা শহরের প্রধান কার্যালয় ও রাতে জামবনীর দলীয় পার্টি অফিসে বিজেপির নীচুতলার কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের আগুনে বেসামাল জেলার গেরুয়া শিবির।

    ঝাড়গ্রামে তৃণমূলের প্রার্থীরা প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েছেন। সেই সময় জেলা বিজেপির অন্দরে প্রার্থীদের নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ বেড়েই চলেছে। ঝাড়গ্রাম, নয়াগ্ৰাম, বিনপুরের বিজেপির নীচুতলার কর্মীরা প্রার্থী বদলের ডাক দিচ্ছেন। নয়াগ্ৰামে আগেই বিজেপি প্রার্থী অমিয় কিস্কুকে সরানোর দাবিতে বিজেপি কর্মীরা পোস্টার দিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে ঝাড়গ্রাম শহরে বিজেপির সদর কার্যালয়ে প্লাকার্ড হাতে দলের কর্মীরা তুমুল বিক্ষোভ দেখান। ঝাড়গ্রাম ও বিনপুর বিধানসভার প্রার্থী বদলের দাবি তোলেন। জামবনীর প্রার্থী বদলের দাবিতে কর্মীরা স্থানীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামলাতে জেলা বিজেপির প্রথম সারির নেতারা জামবনীতে যান। প্রার্থী বদল নিয়ে জেলাজুড়ে বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। 

    ভোটের সময় দলের নীচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। সূত্রের খবর, দলীয় কর্মীদের ক্ষোভ বিক্ষোভ এড়াতে শহরে অনেক টাকা দিয়ে ঘর ভাড়া নেওয়া হয়েছে। ভোটের যাবতীয় কাজকর্ম সেখান থেকেই এবার পরিচালিত হচ্ছে। বিজেপির কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে নিজেদের দাবি দাওয়ার কথা জানাতে এসে নেতাদের দেখা সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না। জেলার প্রবীণ নেতাদের একাংশ দলীয় কর্মীদের প্রতি এই ধরনের আচরণ মেনে নিতে পারছেন না। 

    বিনপুরের বিজেপি কর্মী গোপাল মালাকার বলেন, আদিবাসী ছেলেমেয়েরা এই এলাকায় অনেক লড়াই করেছে। আমদের ভূমিপুত্র প্রার্থী দরকার। না হলে জেতা অসম্ভব। বিনপুরে যাকে প্রার্থী করা হয়েছে তাঁর বাড়ি হাওড়া জেলায়। লোকসভা ভোটে উনি ১ লক্ষ ৭০ হাজার ভোটে হেরেছেন। তাঁকেই দল বিনপুরে প্রার্থী করেছে। জামবনী ব্লকের বিজেপি কর্মী বলেন, প্রণত টুডকে প্রার্থী হিসেবে জামবনী ও বিনপুরের বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা মেনে নেননি। বিনপুরে কয়েকদিন আগে পার্টি অফিসে ঝামেলা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতেও জামবনী পার্টি অফিসে ঝামেলা হয়। সবাই বুঝে গিয়েছে জেলা নেতাদের হাতে কিছু নেই। 

    ঝাড়গ্রাম শহরের বিক্ষুব্ধ এক বিজেপি নেতা বলেন, শহরে ভোটের কাজকর্মের জন্য বহু টাকা দিয়ে ঘর ভাড়া নেওয়া হয়েছে। দলীয় কার্যালয় ছেড়ে সেই ভাড়া অফিসে টাক পয়সার হিসাব নিকাশ চলছে। দলের কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে নিজেদের কথা জানাতে যাচ্ছেন। নেতাদের দেখা পাচ্ছেন না। জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি প্রসূন ষড়ঙ্গি বলেন, ভোটের সময় পৃথক কার্যালয় খোলার মতো আর্থিক ক্ষমতা আমাদের নেই। দলের যাবতীয় কার্যক্রম দলের সকল নেতা কর্মীদের সামনে হচ্ছে। যে দল মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে তাদের লুকোচুরির প্রয়োজন নেই।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)