• গদ্দারমুক্ত নন্দীগ্রামেই শেষের শুরু হবে বিজেপির: অভিষেক
    বর্তমান | ২৬ মার্চ ২০২৬
  • রাহুল চক্রবর্তী, নন্দীগ্রাম: কলকাতা-দীঘা সড়কের উপর চণ্ডীপুর। সেখান থেকে বাঁদিকের রাস্তা ধরে গেলে নন্দীগ্রাম। এ রাস্তায় ঢুকতেই টের পাওয়া গেল, চৈত্রের গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। রাজ্যের অন্যতম ‘হেভিওয়েট’ বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। পদ্মফুল বনাম জোড়াফুলের সেয়ানে সেয়ানে লড়াই। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দিতে রাজি নয়। রাস্তার দু’ধার তারই সাক্ষ্য বহন করছে। পিঠোপিঠি উড়ছে দুই দলের পতাকা। দেওয়াল লিখনেও কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। টাইম কলের পাশের দেওয়ালে জ্বলজ্বল করছে তৃণমূল প্রার্থীর নাম। মোড়ে মোড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মমতার উন্নয়ন বনাম বিজেপির প্রতিশ্রুতি। ভোট-সাজে সেজে ওঠা এই নন্দীগ্রামের ঘোলপুকুর বাজারে বুধবার ছিল তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা। যা ছিল আদতে কর্মিসভা, আম জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তা বিশাল জনসভায় পরিণত হয়। সেই সভা থেকে অভিষেকের হুংকার, ‘গদ্দারমুক্ত নন্দীগ্রামেই শেষের শুরু হবে বিজেপির।’ ভূমিপুত্র তথা তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে নন্দীগ্রামে পরিবর্তনের ডাক দেন তিনি। 

    পূর্ব মেদিনীপুরের এই আন্দোলনের মাটিতে জয় বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে কেন? রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রাম যে কেবল রাজ্যের বিরোধী দলনেতার বিধানসভা কেন্দ্র, তা নয়। একই সঙ্গে এই আসনে লড়াই তৃণমূলের ‘প্রেস্টিজ ফাইট’। কারণ, ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল সূচিত হয়েছিল এখান থেকেই। তাই নন্দীগ্রামের মাটিতে গেরুয়া শিবিরকে যোগ্য জবাব দেওয়ার লড়াই তৃণমূলের। তাই নির্বাচনি প্রচারের দ্বিতীয় দিনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক স্পষ্ট করে দিয়েছেন লড়াইয়ের রোড-ম্যাপ। 

    কর্মিসভায় অভিষেক বলেন, ‘বিজেপি নন্দীগ্রামের মাটিকে অপবিত্র করেছে। এবারের ভোট সেই মাটিকে পবিত্র করার লড়াই। নন্দীগ্রাম কারও গড় নয়। গদ্দারের আবার গড় কীসের! নন্দীগ্রামের মাটি তৃণমূলের শক্তিশালী ঘাঁটি। পবিত্র করের হাত দিয়েই পরিবর্তন আসবে নন্দীগ্রামে।’ শুধু জয় নয়, জয়ের ব্যবধানের নিরিখে পূর্ব মেদিনীপুরের মধ্যে নন্দীগ্রামকে প্রথম করতে হবে বলে টার্গেট বেঁধে দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘বিভাজনের রাজনীতি কায়েম করে ভোটবাক্সে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি। এবারের ভোটেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। কিন্তু তৃণমূলের ফোকাস মমতার উন্নয়ন আর কেন্দ্রের বিজেপির এজেন্সি-রাজ খতম করা।’ কর্মিসভায় অভিষেক আরও বলেন, ‘বিজেপির রাজনীতি হল গেরুয়া পতাকা, জয় শ্রীরাম, বিভাজন, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও। বিজেপিকে কয়েকটি আসনে বাংলার মানুষ জিতিয়েছিল। সেই বিধায়করাই বাংলার প্রাপ্য বন্ধ করে দিয়েছেন। বিজেপির ডবল ইঞ্জিন, ট্রিপল ইঞ্জিন কী করছে, এখন সবার সামনে স্পষ্ট। ওরা মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।’ কর্মীদের অভিষেকের বার্তা, ‘বিজেপি ভয় দেখালে কিংবা চোখ রাঙালে মহিলারা হাতা-খুন্তি নিয়ে আসবেন। আর যদি বেশি লাফালাফি করে তাহলে ৪ মে ফল ঘোষণার পর রবীন্দ্র সংগীতের সঙ্গে একটু ডিজে বাজিয়ে দেবেন।’ কেউ যদি দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তাঁকে ক্ষমা করা হবে না বলে সতর্কও করে দিয়েছেন তিনি। 
  • Link to this news (বর্তমান)