ইন্দ্রজিৎ কর্মকার, কান্দি: কান্দি মহকুমায় কোণঠাসা বামেরা এবার উঠেপড়ে লেগেছে। ভোট টানতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ককেও কাজে লাগানোর গোপন নিদান পেয়েছেন তাঁরা। বিশেষ করে ‘রামে চলে যাওয়া ভোট’ এবার ফিরে আনতে মরিয়া বামেরা। এই লক্ষ্যে এবার মহকুমার চার কেন্দ্রে বাজিমাত করতে আশাবাদী বাম নেতৃত্ব।
প্রসঙ্গত, একটা সময়ে মহকুমার খড়গ্রাম, ভরতপুর ও বড়ঞা লালদুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। খড়গ্রাম সিপিএমের ও বাকি দুই কেন্দ্র ছিল আরএসপির দখলে। তবে ২০১১ সালের নির্বাচনে মহকুমার চার কেন্দ্রেই বামেরা ধরাশায়ী হয়। এরপর গত বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম-কংগ্রেস জোট হলে ওই চার কেন্দ্রেই কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছিল। যার ফলে তাদের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছে বামেদের একাংশ।
এবারের নির্বাচনে সেই ক্ষতি পূরণ করতে মরিয়া বাম নেতৃত্ব। এর জন্য ভোট ঘোষণার আগে থেকেই বাম দলগুলি ওয়ার্ড কমিটির মিটিং শুরু করে দিয়েছিল। বিমুখ হওয়া সদস্যদের দলে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছিল। যদিও এতে খুব একটা লাভ হয়নি বলে জানিয়েছেন দলের কর্মীদের একাংশ। তবে ভোট ঘোষণার পর বাম দলগুলির পক্ষ থেকে আরও একটি গোপন রণকৌশল নেওয়া হয়েছে। তা হল, মার্কসবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী মানুষদের ফের দলে ফিরিয়ে আনতে ব্যক্তিগত সম্পর্ককেও কাজে লাগানোর নিদান। কান্দি শহরের এক সিপিএম নেতা বলেন, মাসখানেক আগেই আমাদের কাছে নির্দেশ এসেছে যে দলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া কমরেডদের ফিরিয়ে আনতে হবে। এরজন্য বন্ধুত্ব হোক বা আত্মীয়তার সম্পর্ককে ব্যবহার করা যাবে। এই সম্পর্কের দোহাই দিয়ে তাঁদের ফের দলমুখী করতে হবে। বিশেষ করে বিজেপিতে যাওয়া কমরেডদের ফিরিয়ে আনতে প্রাণপণ চেষ্টা করতে হবে। কারণ বিজেপি একটি ভয়ানক দল। বড়ঞার আরএসপির প্রার্থী আনন্দ দাস বলেন, একসময় মোহে পড়ে অনেকেই বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন। যাঁরা ছেড়ে গিয়েছিলেন তাঁদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। অনেকে ফিরেও এসেছেন। এবার ভোটের ফল ভালো হবে। কান্দি বিধানসভার সিপিআইয়ের চিকিৎসক প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, শুধু রামে নয়, অনেকে অন্য দলেও চলে গিয়েছিলেন। তবে তাঁরা তাঁদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। তাঁরা ফিরে আসছেন।
আরএসপির জেলা সম্পাদক নওফিল মহম্মদ সফিউল্লা বলেন, বিজেপির মতো মারাত্বক দল আর থাকতে পারে না। একজন বাম মতাদর্শী মানুষ কোনোমতেই বিজেপি করতে পারেন না। আমাদের লক্ষ্য তাঁদের ফের দলে ফিরিয়ে আনা। এরজন্য ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা আত্মীয়তাকেও কাজে লাগানো কোনো অন্যায় হতে পারে না।
এবিষয়ে বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সহকারী সভাপতি সুখেনকুমার বাগদি বলেন, বামেরা দিবাস্বপ্ন দেখছে। বাম আমলে মানুষ অত্যাচারিত হয়েই বিজেপিতে এসেছে। পুরনো স্মৃতি এখনও তাঁদের মনে টাটকা হয়ে রয়েছে। তাই বিজেপিতে যোগ দেওয়া কর্মীদের ফিরে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। -নিজস্ব চিত্র