নির্বাচনি হিংসা রুখতে হাতে সব থানার ম্যাপ, প্রস্তুত হচ্ছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা
বর্তমান | ২৬ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের দিন নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সব থানা এলাকার ম্যাপ চাইছেন রাজ্যে আগত পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। রাজ্যের পুলিশের ভরসায় থাকতে চাইছেন না তাঁরা। কোনো ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ঝামেলা হওয়ামাত্রই কিংবা কোনো অভিযোগ পেলেই ফোর্স দ্রুত পৌঁছে দিতে ওই ম্যাপ তাঁদের সহায় হবে। ম্যাপে সমস্ত কিছু মিলিয়ে দেখছেন তাঁরা। বিভিন্ন বুথের অতীত কাহিনি এভাবেই চিহ্নিত করা হচ্ছে।
শহরের সমস্ত থানা এলাকায় যাচ্ছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। ওসিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করছেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট থানা এলাকার বাসিন্দা এবং ‘মিক্সড পকেট’ বা ‘স্পর্শকাতর’ এলাকার সংখ্যা থেকে পরিস্থিতি বুঝে নিচ্ছেন তাঁরা। কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর, এরপরই চাওয়া হচ্ছে ম্যাপ। সেখানে প্রথমেই দেখা হচ্ছে পাশাপাশি থানার সীমানা কোথায়, কেমন। কারণ ভোটের দিন দুষ্কৃতীরা অপরাধ করার পরই দুই থানার সীমানায় গিয়ে শেল্টার খোঁজে। সীমানা ভাগের সুযোগ নিয়ে পালিয়েও বাঁচতে চায় দুর্বৃত্তরা। একেকটি থানা এলাকার বুথগুলির অবস্থানও জেনে নিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। সেখানে প্রবেশ-প্রস্থান এবং সংযোগকারী রাস্তাগুলিও চিনে নিচ্ছেন। কারণ গোলমালের কারণে একটি রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে গেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিকল্প পথে ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।
পর্যবেক্ষকদের কাছে তালিকা এসেছে ভোটের দিন কলকাতার কোন কোন বুথ বুথ জ্যাম হয়, ছাপ্পা ভোট পড়ে এবং ভোটারদের ভয় দেখানো হয়। এক্ষেত্রে তাঁরা একুশ এবং চব্বিশের ভোটের অভিজ্ঞতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে এবারও ভোটগ্রহণ কেন্দ্র হবে। ম্যাপ দেখে এই বুথগুলিকে আগেভাগেই চিহ্নিত করে রাখছেন পর্যবেক্ষকরা। সেখানে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করাই তাঁদের লক্ষ্য। পাশাপাশি তাঁদের কাছে গোলমালের খবর এলে ম্যাপ ধরে দেখে নিতে পারবেন জায়গাটি ঠিক কোথায়। সেইমতো তাঁরা হিসেব করে নিতে পারবেন কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছাতে কতক্ষণ লাগবে এবং কোন রাস্তা দিয়ে জওয়ানরা যাবেন। দ্রুত হস্তক্ষেপ করে শান্তিপূর্ণ ভোট করানোই তাঁদের লক্ষ্য। শুধু থিয়োরিতে ভরসা নয়, তাঁরা ম্যাপ হাতে থানা এলাকায় ঘুরে মিলিয়ে নিচ্ছেন বাস্তবটা। যেসব বুথের বদনাম বেশি সেগুলি বিশেষভাবে মার্ক করে রাখা হচ্ছে।। নির্বাচনে সমস্ত ধরনের হিংসা আটকাতে পুলিশ পর্যবেক্ষকরা এবার যে আটঘাঁট বেঁধেই মাঠে নেমেছেন, তা তাঁদের পরিকল্পনায় স্পষ্ট।