• অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের অভিযোগে পূর্ব মেদিনীপুরে জেলাশাসক বদল, বিজেপি যোগ? ভবানীপুরের আরও-কে সরানোর দাবি তৃণমূলের
    বর্তমান | ২৬ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক তথা ডিইওকে বদল করে দিল নির্বাচন কমিশন। বুধবার কমিশন এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের ডিইও শ্রীহরি উনিস রিশিন ইসমাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি কমিশনের নির্দেশ উপেক্ষা করে অস্থায়ী কর্মীদের ভোটকর্মী হিসাবে নিয়োগ করেছেন। এই ব্যাপারে সিইও মনোজ আগরওয়ালের তরফে একটি অভিযোগপত্র জমা পড়েছিল কমিশনের দপ্তরে। তার ভিত্তিতে ওই আধিকারিককে বদল করা হল। আজ সকাল ১১টার মধ্যে নিরঞ্জন কুমারকে ওই পদের দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

    এদিকে, নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে রাজ্যে একের পর এক আধিকারিক বদলি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে নিজেদের অবস্থানে স্থির রয়েছে কমিশন। এদিন প্রধান বিচারপতির এজলাসে মামলার শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডু দাবি করেছেন, ‘কোনো আধিকারিককে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে অন্তরায় মনে হলে কমিশন তাঁকে বদলি করতেই পারে। অথবা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ থেকেও বিরত রাখতে পারে তাঁকে।’ আগামী শুক্রবার ফের এই মামলার শুনানি। 

    অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বিডিও সুরজিৎ রায়কে অবিলম্বে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার পদ থেকে সরানোর দাবি তুলেছে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কমিশনকে চিঠি দিয়ে এই দাবি জানানো হয়েছে।  

    তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়েনের দেওয়া চিঠিতে সুরজিৎ রায়কে সমস্ত নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে তাঁর পরিবর্তে নিরপেক্ষ ও পদস্থ আধিকারিক নিয়োগ করার দাবি জানানো হয়েছে। 

    সোমবার রাতে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে বদল করা হয়েছে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারকেও। তার জায়গায় ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে বিডিও হিসেবে কর্মরত সুরজিৎবাবুর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে রিটার্নিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ করা হলে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নষ্ট হতে পারে। 

    রিটার্নিং অফিসারদের বদলি বিতর্কের মাঝে রাজ্য পুলিশেও ব্যাপক হারে বদলির জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক মহল মনে করছে, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি থেকে শুরু করে এসডিও পর্যন্ত বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। তা নিয়ে কমিশন-বিজেপি আঁতাঁতের অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার উপর আক্রমণের বিরুদ্ধেও গর্জে উঠেছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে এবার একেবারে থানা স্তরে আইসি-ওসি, এসডিপিও থেকে শুরু করে ডিএসপি পর্যন্ত বদলি নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে প্রশাসনের অন্দরে। রমনবমী মিটলেই কি তাহলে জারি হবে পুলিশে বদলির বড়োসড়ো নির্দেশিকা? এক্ষেত্রে শতাধিক অফিসারকে বদলি করা হতে পারে বলেও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। 

    সোমবার রিটার্নিং অফিসার বদলির আড়ালে অনেক সিনিয়র ডব্লুবিসিএস অফিসারকে একাধিক ধাপ নীচে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কমিশনের বিরুদ্ধে। তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ জন্মেছে। এবার পুলিশের ক্ষেত্রেও এর পুনরাবৃত্তি হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের। 
  • Link to this news (বর্তমান)