রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: বাংলা দখলের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাছাই করা নেতাদের এরাজ্যে পাঠিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পার্টির প্রায় প্রতিটি সাংগঠনিক স্তরে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন ভিনরাজ্যের নেতারা। স্বয়ং অমিত শাহের নির্দেশে অবাঙালি নেতৃত্বর হাতেই রয়েছে বঙ্গ ভোটের আসল রিমোট কন্ট্রোল। আর এবার ভিনরাজ্যের সেই নেতাদের বিরুদ্ধেই কার্যত তোপ দাগলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। বুধবার নিউটাউনের এক অভিজাত হোটেলে নির্বাচন পরিচালন কমিটির সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানেই অন্য রাজ্য থেকে ‘ডেপুটেশনে’ বাংলায় আসা নেতাদের পরোক্ষে ফাঁকিবাজ বলে দাগিয়ে দেন নীতিন।
গত কয়েক মাসে ভিনরাজ্যের নেতাদের ফাইফরমাস খাটতে খাটতে জেলা বিজেপি নেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। ছাইচাপা সেই ক্ষোভের আঁচ টের পেয়েছেন স্বয়ং জাতীয় সভাপতি। জানা গিয়েছে, নীতিনের কাছে ‘বহিরাগত’ নেতাদের নামে দিস্তা অভিযোগ জমা পড়েছে। বহু নেতাই এলাহি আতিথেয়তা উপভোগ করছেন। আবার মাসের মধ্যে অধিকাংশ সময় নিজের রাজ্যে গিয়ে ‘ছুটি’ও কাটাচ্ছেন। কিন্তু দিল্লিতে রিপোর্ট যাচ্ছে, তাঁরা নাকি বাংলার মাঠে-ময়দানে ‘ঘাম ঝরাচ্ছেন’। এদিন সেই নেতাদের সতর্ক করে নীতিন সাফ জানিয়েছেন, বাংলায় ভোটের মধ্যে কেউ ছুটি পাবেন না। আপৎকালীন পরিস্থিতি তৈরি হলে, তা বিবেচনাযোগ্য। সেক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের আগাম অনুমতি সাপেক্ষে ছুটি নিতে হবে। নীতিন নবীনের এই চরম বার্তায় খুশিতে ডগমগ বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্য কমিটির এক নেতার কথায়, ‘সারা বছর আমরা পথেঘাটে দলের হয়ে রাজনৈতিক সংগ্রাম করি। আর ভোটের আগে রাজ্য, বিভাগ জেলা, মণ্ডল—প্রায় প্রতিটি স্তর বহিরাগতরা দখল করে নিল! কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে তাঁদের আপ্যায়নেই সব সময় চলে যাচ্ছে। ভোটের কাজ শিকেয় উঠেছে। তাঁদের জন্য কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা আসছে। সেই তহবিল নিয়েও নয়ছয় হচ্ছে। আর বহিরাগত নেতারা অনেকেই ভোটের কাজের থেকে ফাঁকিবাজিতেই বেশি ব্যস্ত। পার্টির টাকায় দেশের বাড়ি যাওয়া-আসা করছে। আর লম্বা চওড়া বিল পাঠাচ্ছে।’ এখন নীতিনের এই ‘নবীন দাওয়াই’ কতটা কাজে আসে এখন সেটাই দেখার।