নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেলেঘাটায় বিজেপির ভয়ানক দলীয় কোন্দল চলে এল প্রকাশ্যে। দলেরই প্রার্থীকে ‘বয়কট’ করার পোস্টার পড়ল একাধিক রাস্তায়। পাশাপাশি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হলেন বিজেপির স্থানীয় কর্মীরা। একইসঙ্গে এই অঞ্চলের বিজেপি কর্মীরা দলের এক কর্মীকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। তাঁকে সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন রাস্তায় পোস্টারও সাঁটিয়েছেন। ভোটের আগে এই ঘটনায় ব্যাপক বেকায়দায় বিজেপি। মারাত্মক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সর্বত্র।
বেলেঘাটা কেন্দ্রে দলের প্রার্থী ঘোষণা ইতিমধ্যেই করে দিয়েছে বিজেপি। ডাঃ পার্থ চৌধুরীকে টিকিট দিয়েছে গেরুয়া শিবির। প্রার্থীকে ঘিরেই কর্মীদের মধ্যে দানা বেধেছে ক্ষোভ। এবং বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলে এসেছে প্রকাশ্যে। সল্টলেকে বিজেপি কার্যালয়ে একের পর এক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেই চলেছে। তার সঙ্গে বেলেঘাটায় এরকম মারাত্মক ঘটনা ঘটায় মুখ পুড়ছে দলের। জানা গিয়েছে, বেলেঘাটা, মানিকতলা মেন রোডে লাগানো হয়েছে ‘বয়কট’ লেখা সাদা-কালো পোস্টার। তাতে বিজেপি প্রার্থীর নামের উপর ক্রসমার্ক দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেইরকম পোস্টারে একপ্রকার ছেয়ে গিয়েছে বেলেঘাটা অঞ্চল। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় বয়কট পোস্টারের পাশেই বিজেপি কর্মীরা নির্দল প্রার্থী অম্বিকাপ্রসাদ সাউয়ের নামে পোস্টার লাগিয়েছেন। সেগুলি বিজেপির আদলে গেরুয়া-সবুজ-হলুদ রঙে তৈরি। বেলেঘাটার বিজেপি কর্মী সমর্থিত নির্দল প্রার্থী অম্বিকাপ্রসাদ সাউ বলেন, ‘এ হল বেলেঘাটা অঞ্চলের বিজেপি কর্মীদের কণ্ঠস্বর। আমরা একাধিকবার দলীয় নেতৃত্বকে প্রার্থী বদল করার কথা বলেছিলাম। কারণ যাঁকে দল দাঁড় করিয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ আছে। যখন আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছি, তখন তো আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধেও একই প্রশ্ন উঠবে। দলকে বারবার বলেও লাভ হয়নি। তাই দলের কর্মীরা সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।’ বাকি কর্মীদের কথায়, ‘আমরা যাঁরা এলাকায় তৃণমূলের হাতে মার খেয়ে ঘরছাড়া হলাম, তা সত্ত্বেও পার্টি করে গেলাম। কয়েক মাস ধরে তাঁদেরই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে কোণঠাসা করেছেন দলের নেতারা। যাঁরা তলে তলে তৃণমূলের সঙ্গে আঁতাত করেছে এখন তাঁরাই বিজেপির হয়ে এই অঞ্চলে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। এটা মানব না।’
কলকাতায় এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তিনি বৈঠক করছেন দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে। বিধানসভা নির্বাচনের রণনীতি নিয়ে আলোচনা করছেন। তাঁর উপস্থিতিতেই বেলেঘাটায় বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘অনেক ভেবেচিন্তে রাজ্যের প্রতিটি আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। তাতে অদল-বদল কিছুই হবে না। এটা শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত।’
অন্যদিকে শহরজুড়ে প্রচারে নেমে পড়েছে সব দলই। এদিন চেতলার পীতাম্বর ঘটক লেন ও তিওয়ারি পাড়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচার করেন ফিরহাদ হাকিম। সন্ধ্যায় পাইকপাড়ায় এক চায়ের আড্ডায় জনসংযোগ সারেন কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের জোড়াফুল প্রার্থী অতীন ঘোষ। টালিগঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস রানিকুঠি অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেন। অন্যদিকে, শোভাবাজারের বস্তাপট্টিতে বামপ্রার্থী ঝুমা দাস দেওয়াল লিখনে অংশ নেন। বালিগঞ্জ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শতরূপা বসু মল্লিকবাজার এলাকায় জনসংযোগ সারেন। মানিকতলায় প্রচার করেন বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়।