• জয়ের ব্যবধান বৃদ্ধি করতে কর্মীদের বাড়ি বাড়ি প্রচারের নির্দেশ তৃণমূলের
    বর্তমান | ২৬ মার্চ ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বারুইপুর: গত লোকসভা ভোটের ফলাফলে দেখা গিয়েছিল, বারুইপুর পুরসভার বেশ কিছু ওয়ার্ডে তৃণমূল হেরে গিয়েছে। নতুবা তৃণমূল প্রার্থীর জয়ের মার্জিন কমেছে। বিষয়টি উদ্বেগে রেখেছে জোড়াফুল শিবিরকে। এবারে ভোটে তাই তৃণমূল প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান বৃদ্ধি করতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনসংযোগ বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশে বলা হয়েছে, বাড়ি বাড়ি যেতে হবে কাউন্সিলারদের। পাশাপাশি কর্মীদের হাতজোড় করতে হবে মানুষের কাছে গিয়ে।

    এই ব্যাপারে বারুইপুর পশ্চিম ব্লক তৃণমূল সভাপতি গৌতম দাস বলেন, এবারে পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ডেই জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। কাউন্সিলারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সমস্যা শুনতে বলা হয়েছে। বারুইপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুভাষ রায়চৌধুরী বলেন, জনসংযোগ আরও নিবিড় করতে বলা হয়েছে। কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কথা বলবেন নাগরিকদের সঙ্গে। ফল পরিবর্তন হবে শহরে।

    আর এই নিয়েই জোড়াফুল শিবিরকে কটাক্ষ করেছেন বিরোধী সিপিএম ও বিজেপি নেতারা। সিপিএমের প্রার্থী লাহেক আলি ও বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পাল বলেন, তৃণমূল কাউন্সিলারদের ব্যবহার কেমন, সেটা মানুষ জেনে গিয়েছে। তাই হাজার জনসংযোগেও ভোট বাড়বে না। বারুইপুর পুরসভায় ১৭টি ওয়ার্ড রয়েছে। গত ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, পুরসভার ১, ২, ৪, ১৩, ১৪, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী সায়নী ঘোষ হেরেছেন। আর তাঁর জয়ের মার্জিন কমেছে ৫, ৬, ১০, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে। এই ফলাফলের পরে বারুইপুর পশ্চিমে জোড়াফুল শিবিরের তরফে জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছিল। অনেক কাউন্সিলার তা বাড়িয়েওছেন। এছাড়া এবার বিধানসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের মার্জিন কোনোমতেই যাতে না কমে, সেইদিকে লক্ষ্য রেখেছেন তাঁরা।

    সূত্রের খবর, দলীয় কর্মী ও কাউন্সিলারদের বলা হয়েছে, পরাজিত ওয়ার্ডে প্রয়োজনে বারংবার বাড়ি বাড়ি যেতে হবে। উন্নয়ন-এর প্রচার আরও বেশি করতে হবে ওইসব ওয়ার্ডে। অন্যদিকে, বিরোধী সিপিএম ও বিজেপি শহরের এই ফলাফলের ফায়দা নিতে তৈরি হচ্ছে। 

    সিপিএম প্রার্থী লাহেক আলি বলেন, ওয়ার্ডে রাস্তাঘাট এখনও বেহাল। পানীয় জল পরিষেবা নিয়ে ক্ষুব্ধ মানুষ।  এই নিয়ে আমাদের কাছে তাঁরা বলছেন। তাই আমরাও নজর রাখছি শহরে। একই কথা বলেন বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পাল। তিনি বলেন, নাগরিকরা কাউন্সিলারদের ব্যবহারে ক্ষুব্ধ। তাঁদের যে কোনো জনসংযোগের বালাই নেই, আমরা প্রচারে গিয়ে সেকথা জানছি। শহরের মানুষ এর জবাব দেবে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)