আর জি কর হাসপাতালে ফের লিফট বিভ্রাট, আটকে পড়লেন লিফটম্যানই
বর্তমান | ২৬ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের আর জি কর হাসপাতালে লিফট বিভ্রাট! একবার নয়, দু’বার। বুধবার মধ্যরাতে ঘটনাটি ঘটে। রাত ১.৩০টা নাগাদ আর জি কর হাসপাতালের অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ে লিফট আটকে যায়। সেখানে আটকে পড়েন লিফটম্যান নিজেই। বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ পুরানো ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের এক নম্বর লিফটও আটকে যায়। ভিতরে আটকে পড়েন লিফটম্যান সহ সাতজন রোগীর বাড়ির লোক। তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়তে থাকে। তাঁদের মধ্যে কারও কারও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। টেকনিশিয়ানদের চেষ্টায় উদ্ধার করা হয় সবাইকে। এক সপ্তাহের মধ্যে পরপর লিফট বিভ্রাটের ঘটনায় ফের প্রশ্নে আর জি কর হাসপাতালের নিরাপত্তা।
এদিকে ট্রমা সেন্টারের ‘অভিশপ্ত’ লিফট নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গিয়েছে হাসপাতাল সূত্রে। যে ২ নম্বর লিফট নিয়ে এত বিতর্ক, যে লিফটটির জন্য কালিন্দীর তরতাজা যুবক অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণ গেল, সেটি নাকি ‘ফিট’ ছিল! ধারবাহিকভাবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে লিফট রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা ট্রমা সেন্টারের ১, ২ এবং ৩ নম্বর— তিনটি লিফটের ফিট সার্টিফিকেট দিয়েছে। তা পাঠানো হয়েছিল পূর্তদপ্তরের আধিকারিকদেরও। যদিও ঘটনার আগের দিন ট্রমা সেন্টারের সেই ঘাতক লিফটটি গড়বড় করছিল বলে একাধিক রোগীর বাড়ির লোক অভিযোগ জানান। অরূপবাবুর পরিবার লিফটে ওঠার পর চারতলার সুইচ টেপার পর অভিশপ্ত লিফটটি চারতলায় না গিয়ে নীচে বেসমেন্টে নেমে খুলে যায়। কিন্তু, বাইরে একটি তালাবন্ধ গেট থাকায় তাঁরা বেরতে পারেননি। তার কিছুক্ষণ পরই ওই ভয়াবহ ঘটনা।
পরপর লিফট বিভ্রাটের পর সতর্ক আর জি কর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বুধবার হাসপাতাল, পূর্তদপ্তর ও পুলিশকর্তা এবং জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধিত্বে বৈঠক হয়েছিল। তাতে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য উঠে আসে। দুর্ঘটনা এড়াতে ১০ দফা সুরক্ষাবিধি প্রচার করছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল চত্বরে ৩২টি লিফটে থাকবে জরুরি নম্বর। একই সঙ্গে লিফটে প্যানিক বাটন রাখার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। সবসময়ের জন্য হাসপাতালে থাকবেন একজন পূর্ত ইঞ্জিনিয়ার। লিফটম্যান না থাকলে লিফট ‘অচল’ বলে ধরা হবে। সেই সময় রোগীর পরিবারের সদস্যদের লিফট ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে হাসপাতাল। এক মাসের মধ্যে খুলছে পুরানো জেনারেল ইমার্জেন্সি। রোগীর জন্য জেনারেল ইমার্জেন্সি থেকে বেরনোর জরুরি সমস্ত রাস্তা ও র্যাম্প খুলে দেওয়া হবে।