অন্ধ্রপ্রদেশে যাত্রিবাহী বাসের সঙ্গে স্টোনচিপস বোঝাই ডাম্পারের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ট্রাক ও বাস দু’টিতেই আগুন লেগে যায়। তার জেরে ঝলসে মৃত্যু হয় অন্তত ৮ জনের। পুলিশ জানায় দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন জখম হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে পুলিশের অনুমান। বৃহস্পতিবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের মার্কাপুরম জেলার রায়াভরম গ্রামের কাছে। সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তেলঙ্গানার নির্মল থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর যাচ্ছিল হরিকৃষ্ণ ট্রাভেলসের ওই বাসটি। সেই সময় ওই বাসের সঙ্গে উল্টো দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা স্টোনচিপ বোঝাই ডাম্পারের মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, রাস্তার একটি বাঁকের মুখে দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন মার্কাপুরম জেলার ডেপুটি পুলিশ সুপার নাগরাজু।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় স্থানীয় পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল। দুর্ঘটনার কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। একটি সূত্রের দাবি, বাসের সামনের দিকে বসে থাকা ১০ জন যাত্রী দুর্ঘটনার পরে বাস থেকে বেরোতে পারেন। এখনও মৃতদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে তাঁরা কানগিরি এলাকার বাসিন্দা বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করছে পুলিশ।
খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন স্থানীয় বিধায়ক কান্ডুলা নারায়ণ রেড্ডি। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু এই দুর্ঘটনায় শোকজ্ঞাপন করেছেন। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে রাজস্থানের জয়সলমের-যোধপুর হাইওয়েতে এসি স্লিপার বাসে আগুন লেগে ২০ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরে উত্তরপ্রদেশের মথুরায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রিবাহী বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে একাধিক গাড়ির। বাসে আগুন ধরে যায়। ঝলসে মারা যান ১৩ জন। জখম হন ৬০ জন।