এই সময়: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (RG Kar Hospital) সম্প্রতি লিফট–বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দমদমের এক বাসিন্দা। এ রকম কোনও ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বুধবার ওই হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠকে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ দিনের বৈঠকের নির্যাস— এখন থেকে হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ডিউটিতে থাকতে হবে পূর্ত দপ্তরের অন্তত এক জন ইঞ্জিনিয়ারকে। সেই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সংস্থাকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, লিফটম্যান বা নিরাপত্তাকর্মী ছাড়া হাসপাতালের লিফট কোনও ভাবেই চালানো যাবে না।
রাজ্যে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি জারি থাকায় এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির অন্যতম সদস্য তথা কাশীপুর–বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক, তৃণমূলের অতীন ঘোষ। এ বারও তিনি উত্তর কলকাতার ওই কেন্দ্রে জোড়াফুলের প্রার্থী। অতীনের অভিযোগ, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই বৈঠকের (রোগীকল্যাণ সমিতির) দাবি জানালেও নানা টালবাহানায় তা পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।’
বুধবার রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠক পরিচালনা করেন হাসপাতালের অধ্যক্ষ তথা রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান মানস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মেডিক্যাল সুপার ও ভাইস প্রিন্সিপাল (এমএসভিপি) সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জুনিয়র ডাক্তার থেকে শুরু করে পূর্ত দপ্তরের আধিকারিক ও সাফাই কর্মীরাও।
হাসপালাত সূত্রের খবর, এ দিন বৈঠকের শুরুতেই ক্ষোভে কার্যত ফেটে পড়েন জুনিয়র ডাক্তাররা। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের লিফট মাঝেমধ্যেই বিকল হয়ে পড়ে। চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা। আর তাঁদের সেই ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় চিকিৎসকদের। এ নিয়ে বহু ক্ষেত্রে রোগীর পরিজনদের হাতে চিকিৎসকদের হেনস্থা হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। লিফট–বিপর্যয়ে এক জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে লিফটের যান্ত্রিক ত্রুটি সামনে এসেছে এবং তার জন্য দায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে পূর্ত দপ্তরের দিকেই।
তবে এ দিনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, রাত ৩টে বা ভোর ৪টে নাগাদ লিফট বিকল হলেও যাতে দ্রুত মেরামত করা যায়, তার জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের ‘নাইট ডিউটি’ বাধ্যতামূলক। বর্তমানে হাসপাতালে কেবল দু’জন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন। হাসপাতালে পূর্ত দপ্তরের কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে শিগ্গিরি তাঁরা নবান্নে চিঠি দিচ্ছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বৈঠকে জানিয়েছেন। বৈঠকে ঠিক হয়েছে, লিফটম্যান বা নিরাপত্তাকর্মী না–থাকলে পূর্ত দপ্তর লিফট–পরিষেবা বন্ধ রাখবে।
তা ছাড়া, লিফটের ভিতরে নতুন একটি স্টিকার সাঁটা হবে। লিফটে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলে বা লিফট থেমে গেলে আতঙ্কিত হয়ে এলোপাথাড়ি সুইচ না–টিপে কোন নম্বরে ফোন করতে হবে, তার সবিস্তার নির্দেশিকা থাকবে সেখানে। তবে লিফটের মধ্যে মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ না–করলে কিংবা লিফটে যিনি আটকে পড়েছেন, তাঁর কাছে মোবাইল ফোন না–থাকলে কী করণীয়, সেটা অবশ্য জানা যায়নি।
আরজি কর হাসপাতালের অন্যান্য পরিকাঠামো নিয়েও এ দিনের বৈঠকে আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, দ্রুত চালু হতে চলেছে হাসপাতালের পুরোনো ইমারজেন্সি বিল্ডিং। পূর্ত দপ্তরের কাজ শেষ হলেই সেখানে অক্সিজেন পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু হবে।