• নমোর পোস্টে কালী-বন্দনা, অযোধ্যা-বার্তা অভিষেকের
    এই সময় | ২৬ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: রামবনমীর আগের দিন ‘মা কালী’র শরণাপন্ন হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিধানসভা ভোটের আবহে যার মধ্যে রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন অনেকেই। বুধবার ছিল নবরাত্রির সপ্তমী। আজ, বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে রাম নবমীর তিথি পড়ে যাচ্ছে। বিধানসভা ভোটের আগে বাংলা জুড়ে গেরুয়া ব্রিগেড ধুমধাম করে রামবমী পালনের তোড়জোড়ও শুরু করে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেকদের একাংশের ব্যাখ্যা, ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের এক্স হ্যান্ডলে শ্যামাসঙ্গীত পোস্ট করে মোদী বুঝিয়ে দিয়েছেন, শুধুই ‘রাম’ নয়, বিজেপি ‘কালী’তেও আছে প্রবল ভাবে!

    বিজেপি ঘোষিত ভাবে ‘রাম’ভক্ত। কিন্তু ইদানীং তাদের ‘কালীভক্তি’ও নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের। তৃণমূল যতই বিজেপিকে বাংলা এবং বাঙালি বিরোধী বলে প্রজেক্ট করার চেষ্টা করছে, ততটাই জোরের সঙ্গে পদ্ম নেতারা ‘জয় মা কালী’ ধ্বনি তুলছেন দলীয় সভাগুলি থেকে। সেই ট্রেন্ড বজায় রেখেই এ দিন একটি শ্যামাসঙ্গীত নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন মোদী। ‘কালী কালী বল রসনা’ গানটি পোস্ট করে মোদী লিখেছেন, ‘মাতৃদেবীর আরাধনা ভক্তদের ম‍নে নতুন আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করে। মাতৃসাধনা সকলকে নবশক্তিতে পূর্ণ করে।’ আরও একটি পোস্টে তিনি একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে লেখেন, ‘মা কালরাত্রিকে প্রণাম! তাঁর আশীর্বাদ সকলের জীবনে সাহস নিয়ে আসুক। সংকল্প ও সাফল্যের পথ সমৃদ্ধ করুক।’

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের বক্তব্য, ভোটের আগে বিজেপির লক্ষ্য, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের মাধ্যমে হিন্দু ভোটকে এককাট্টা করা। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বেশিরভাগ হিন্দু ভোট যদি বিজেপি প্রার্থীদের বাক্সে ফেলা যায়, তা হলে বাং‍লায় ক্ষমতার পাশা উল্টে যেতে বেশিক্ষণ লাগবে না। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বিজেপির এই কৌশলকে কাউন্টার করতে বাঙালি তাসের উপরে বাজি ধরেছে। বিজেপিকে বাঙালি বিরোধী আখ্যা দিয়ে তারা লাগাতার প্রচার করে চলেছে। অর্থাৎ, বিজেপি যখন হিন্দুত্বের অস্ত্রে শাণ দিচ্ছে, তৃণমূ‍ল তখন বাঙালিয়ানায়।

    তবে একই সঙ্গে নিজেদের গা থেকে বাঙালি বিরোধী তকমা দূর করতেও সক্রিয় বিজেপি। তাই গেরুয়া ব্রিগেড প্রমাণ করতে চাইছে যে, তারা রামের মতো কালীরও ভক্ত। অর্থাৎ, কালী–দুর্গার মতো বাঙালিদের আরাধ্য দেব–দেবীদেরও তারা একই ভাবে মে‍নে চলে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সে কারণেই সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠির শুরুতে মোদী লিখেছিলেন, ‘জয় মা কালী’। ১৪ মার্চ ব্রিগেডে বিজেপির সভামঞ্চও তৈরি হয়েছিল দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দিরের আদলে। এমনকী, শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরে তাঁর সংবর্ধনা মঞ্চেও রাখা ছিল মা কালীর ছবি। বিধানসভা ভোটের মুখে রামনবমীকে হাতিয়ার করে বিজেপি যখন হিন্দুত্বের অস্ত্রে শাণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্যামাসঙ্গীত পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গ–সমাজকে বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    তবে এ ভাবে বাঙালিদের মন জয় করে সাম্প্রয়াদিক মেরুকরণ করা যাবে না বলে অভিমত তৃণমূল নেতৃত্বের। যে ভাবে রামমন্দির তৈরির পরেও অযোধ্যায় বিজেপিকে হারতে হয়েছিল, বাংলাতেও তাদের একই পরিণতি হতে চলেছে বলে দাবি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এ দিন নন্দীগ্রামের কর্মিসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যারা ভগবান রামকে নিয়ে রাজনীতি করে, তারা অযোধ্যায় ভগবান রামের জন্মভূমিতেই পরাজিত হয়েছে। নন্দীগ্রামও বিজেপিকে একই ভাবে শিক্ষা দেবে।’ দার্জিলিং–এর নকশালবাড়ি, জলপাইগুড়ির ঠাকুরনগরের নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সব ধর্মকে নিয়ে চলে। ধর্মের সব থেকে বড় জায়গা এটাই। সব উৎসব আমাদের উৎসব। আজ বাসন্তী পুজো। রামনবমীও হবে তার পর। আমরাও রামবনমীর মিছিল করি। রাম কারও কেনা নয়।’

  • Link to this news (এই সময়)