• কলকাতায় বহুতলে ছাদের পার্টিতে চলল গুলি, নিহত ১ যুবক, গ্রেপ্তার ৪
    এই সময় | ২৬ মার্চ ২০২৬
  • মধ্যরাতে শহরের ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে দুষ্কৃতীদের শুটআউট। ছাদের উপরে মদের আসরে বচসার জেরে গুলি চলার অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই নিহত এক যুবক। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বাঘাযতীন এলাকায়, কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে। নিহতের নাম রাহুল দে (৩৬)। আহত হয়েছেন জিৎ মুখোপাধ্যায় নামে অন্য এক যুবক। ওই বহুতলে জিতের ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তিনি স্থানীয় কাউন্সিলারের ঘনিষ্ঠ বলে এলাকার বাসিন্দাদের দাবি। তাঁরা এও দাবি করেন, রাহুলও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। খাস কলকাতায় ঘনবসতি এলাকায় এই খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    সূত্রের খবর, রাহুল এবং জিৎ অর্থাৎ নিহত এবং আহত যুবক পূর্ব পরিচিত। তবে, দীর্ঘদিন তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল না। বুধবার রাতে জিৎ মুখোপাধ্যায়ের ওই ফ্ল্যাটে পার্টি ছিল। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন রাহুল। পার্টি চলাকালীন বহুতলের ছাদে গিয়ে কয়েকজন মদ্যপান করছিলেন বলে অভিযোগ। রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ গুলির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। ছাদের উপর বাকি যাঁরা ছিলেন, গুলি চলার পরেই তাঁরা পালিয়ে যান।

    খবর পেয়ে রাহুলের ভাই ও মা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন রাহুল দে। কাছেই গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে ছিলেন জিৎ মুখোপাধ্যায়। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা রাহুলকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, আহত জিৎ মুখোপাধ্যায় চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে পাটুলি থানার পুলিশ এবং লালবাজার হোমিসাইড শাখার অফিসারেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন এবং তদন্ত শুরু করেন। কী ভাবে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০২১ সাল থেকে আহত যুবক জিৎ বহুদিন ওই এলাকায় থাকতেন না। তাঁর বিরুদ্ধে দুষ্কর্মের একাধিক অভিযোগ রয়েছে পুলিশের কাছে। বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে একাধিকবার পাটুলি থানার হাতে গ্রেপ্তারও হন তিনি ।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের ঘনিষ্ঠ ছিলেন জিৎ। এলাকায় নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ শুরু হওয়ায় খোদ কাউন্সিলারই থানায় জিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, জিতকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বের করে দেওয়া হয়। ১০১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে চলে গিয়ে ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন এই জিৎ। তবে সেখানে গিয়েও একই অপরাধে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে নামে। নেতাজি নগর থানার পুলিশও বেশ কয়েকবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিন কুড়ি আগে পাটুলির ফুলবাগানে বাবা-মায়ের ফ্ল্যাটে এসে থাকতে শুরু করেছিলেন জিৎ।

    বৃহস্পতিবার রাতে নিজেদের আবাসনের ছাদে মদ্যপানের আসর বসানোর জন্য রাহুলকে নিমন্ত্রণ করেন তিনি। মদের আসরে কয়েকজন দুষ্কৃতী ওই আবাসনে ঢুকে পড়ে । তারাই গুলি চালায় বলে প্রাথমিক তদন্তে জেনেছে পুলিশ।

    তদন্তকারীদের অনুমান, সিন্ডিকেট এবং টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদের জেরে গুলি চলেছে। ঘটনায় ধৃতদের নাম দীপ রায়, বিধান বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজা বণিক এবং জয়ন্ত ঘোষ। ভোটের মুখে এমন ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের দাবি করছেন স্থানীয়রা।

  • Link to this news (এই সময়)