মঙ্গলবার প্রায় বিরোধী শূন্য লোকসভায় পাস হয়েছে ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার সংক্রান্ত সংশোধনী বিল। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে-সহ বিরোধীদের তীব্র আপত্তির মধ্যেই মাত্র আড়াই ঘণ্টার আলোচনার পর মঙ্গলবার লোকসভায় ধ্বনিভোটে বিলটি পাস হয়ে যায়। বুধবার রাজ্যসভার বাধাও টপকে গেল ওই সংশোধনী। তবে সংসদের বাধা টপকালেও আগামী দিনে ওই বিলটি আইনি বাধায় পড়তে পারে। অন্তত তেমনটাই ইঙ্গিত মিলল বুধবার।
মঙ্গলবার লোকসভায় পাশ হওয়ার পর বুধবার রাজ্যসভায় বিলটি পেশ করা হয়। ডিএমকে সাংসদ তিরুচি শিবা বিলটিকে বিবেচনার জন্য সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়। লোকসভার মতোই রাজ্যসভাতেও বিলটি ধ্বনিভোটে পাশ হয়ে যায়। বিরোধী আপত্তি উড়িয়ে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়নমন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমার দাবি করেন, এই বিল আসলে সমাজের সব অংশকে একত্রিত করার চেষ্টা। যারা শুধু জৈবিক কারণে বৈষম্যের শিকার হন, তাঁদের সুরক্ষা দেবে এই বিল।”
কিন্তু যেদিন এই বিল সংসদে বাধা টপকালো সেদিনই সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত কমিটি বিলটিকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। সুপ্রিম কোর্টের তৈরি করা ওই উপদেষ্টা কমিটির বক্তব্য, বিলটিতে নিজের লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণ এর অধিকার খর্ব করা হয়েছে। কমিটির মতে এটি শীর্ষ আদালতের ২০১৪ সালের ঐতিহাসিক নালসা রায়ের পরিপন্থী। বিলটির মাধ্যমে স্ব-পরিচয়ের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ২০১৪ সালের একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ট্রান্সজেন্ডারদের স্ব-পরিচয়ের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু নতুন সংশোধনীতে সেই অধিকার বাতিল করে মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে পরিচয় নির্ধারণের ব্যবস্থা আনা হয়েছে, যা অন্যায়।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রের এই নয়া বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। যদিও সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে আইনের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে। বিলটি পাস হওয়ার পরই বিভিন্ন ট্রান্সজেন্ডার সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিলটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ শুরু হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।