বাঁশ-কাপড় বেঁধে তৈরি করা হয়েছে প্যান্ডেল। ভিতরে রয়েছে একাধিক কাউন্টার। চেয়ার টেবিলও সাজানো রয়েছে। কিন্তু কর্মী-আধিকারিকের দেখা নেই। ফলে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে এসে ফিরে গেলেন অনেক মানুষ। বুধবার মালদহে এই অভিযোগ তুলেই সরব হয়েছেন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ।
ইতিমধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে প্রথম পর্যায়ের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর সাপ্লিমেন্টারি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালগুলি মূলত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ পড়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনবে। তাই ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের মধ্যে অনেকেই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার প্রস্তুতি শুরু করেছে। কিন্তু মালদহে ট্রাইব্যুনালের জন্য গিয়ে সারাদিন কাটিয়ে বিফল হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অসংখ্য মানুষকে। যদিও এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন দপ্তর বা জেলা প্রশাসনের কেউ মুখ খোলেননি। ট্রাইব্যুনালের জন্য এদিন আবেদন নেওয়া হবে কি না, কবে থেকে নেওয়া হবে, এমন কোনও প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো একজন কর্মীও সেখানে হাজির ছিলেন না বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে কোনও রকম নোটিস বা বিজ্ঞপ্তিও টাঙানো নেই। ফলে অন্ধকারে সাধারণ মানুষ।
সদ্য প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ‘ডিলিট’ হয়েছে তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পরদিন থেকেই ‘অফলাইন’-এ জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন বলে দাবি তাঁদের। কিন্তু এদিনের মালদহের চিত্র দেখে বিস্মিত আবেদন করতে আসা মানুষজন। সারাদিন অপেক্ষা করে হয়রান হয়ে তাঁদের বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে বলেও অভিযোগ।
এদিন প্যান্ডেলের পাহারায় ছিলেন কয়েকজন পুলিশকর্মী। সেই পুলিশকর্মীরাও জানেন না, কোনও আধিকারিক বা কর্মী কেন নেই, তাঁরা কখন আসবেন বা আদৌ আসবেন কি না। অথচ ১০০ – ১৫০ কিলোমিটার দূর দূর থেকে মানুষরা এসেছেন তীব্র আতঙ্ক আর আশঙ্কা নিয়ে। সারাদিন ধরে অপেক্ষা করেও মেলেনি প্রশাসনিক কোনও আধিকারিক বা কর্মীর দেখা। তাই কোনও আবেদন জমা না দিয়েই ফিরতে হয়েছে তাঁদের।
মালদহ জেলার সব থেকে বেশি নাম বাতিল হয়েছে সুজাপুর, হরিশ্চন্দ্রপুর এবং চাঁচল বিধানসভা এলাকার। সাধারণ মানুষকে আইনি সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছেন আইনজীবীরা। এক-একজন আইনজীবী ৫ থেকে ৬ হাজার জনের হয়ে ট্রাইব্যুনালের জন্য এসেছিলেন। কিন্তু তাঁদেরও ফিরে যেতে হয়েছে। এদিন কয়েকজন আইনজীবী এই অবস্থায় কী করবেন জানতে প্রশাসনিক ভবনে নির্বাচন দপ্তরের ওসি ইলেকশনের কাছে যান। তাঁদের অভিযোগ, সেখানে সদুত্তর না মেলায় তাঁরা জেলা প্রশাসনের নেজারত সেকশনে যান। কিন্তু কোথাও কোনও সদুত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ তাঁদের।